কবিতা

তোমার নিঃসঙ্গ অবয়ব

আলাপের সূত্রে তুমি এসেছিলে, মায়াবিনী, বহু দূর থেকে
নক্ষত্রের রক্তিম-সরণরূপে, সংকেতের অস্ফুট ভাষায়;
তোমার মাতাল গন্ধে ধীরে ধীরে খুলে গেছে আমার দুয়ার
অনিদ্রার মুক্তাফলে রাত্রিগুলো হয়েছে উতলা 
যেন দূর পৃথিবীর নিঃসঙ্গ সমুদ্রের ঢেউ
যেন দূর পৃথিবীর পরীর পাহাড় থেকে ভেসে আসা ধ্বনি—
‘যে-তুমি হরণ করো’,
যে-তুমি বরণ করো ‘অশ্লেষার রাক্ষসী বেলায়’।

মাঝেমধ্যে ভেসে আসে তোমার নিঃসঙ্গ অবয়ব
আমার পাগল স্বপ্নে তুমি শুধু মুক্তা ফলাও
বিষণ্ণ বিভূতি ও রতিবঞ্চনাজাত বিষণ্ণ প্রবাল 
তোমার জ্যোৎস্নায় ভাসে আমার আত্মার গুঞ্জরণ
তোমার শব্দের মাঝে শুয়ে পড়ি আমি,
ঘুমের ভিতরে দেখি তোমার শব্দের মাঝে স্বপ্নে জাগ্রত। 
তোমার মাতাল হাওয়া, বুনো গন্ধ, ইশারা-মদির চলাচল
তোমার শ্বাসের খোঁজে পৃষ্ঠার মরূদ্যান পার হয়ে যাই
অনতিকথনে মোড়া কামনার শিখাগুলো আমাকে কাঁপায়।

তুমি দূর, অতি দূর ইগুয়ানা, অক্টোপাস, সুগন্ধী বিষ
‘তুমি কি আমার কথা ভাবো?’
আমি ভেবে প্রতিদিন ভস্মীভূত হই শুধু তোমার কুহকী জ্যোৎস্নায়।