দুই যুগের শ্রেষ্ঠত্বের অবসান; জকোভিচ এখন নাম্বার টুয়েলভ

টিনএজার ক্রুজ হেউইট যখন প্রফেশনাল টেনিসে পা রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ঠিক তখনই বিশ্ব টেনিস র‍্যাঙ্কিংয়ে ঘটে গেল এমন এক ঘটনা যা গত ২৪ বছরে কেউ দেখেনি। ইউএস ওপেনের প্রথম রাউন্ডে মারিয়ানো নাভোনের কাছে অপ্রত্যাশিত হারের পর র‍্যাঙ্কিংয়ের ৫ নম্বর থেকে ১২ নম্বরে নেমে গেছেন নোভাক জকোভিচ। এই পতনের মধ্য দিয়ে ২০০২ সালের অক্টোবরের পর এই প্রথম টেনিসের শীর্ষ ১০ র‍্যাঙ্কিংয়ের কোনো স্থানই আর নেই রজার ফেদেরার, রাফায়েল নাদাল বা নোভাক জকোভিচের দখলে।

একটি যুগের চূড়ান্ত পরিণতি আধুনিক টেনিসের দীর্ঘ দুই দশক ধরে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখা ‘বিগ থ্রি’-এর শেষ প্রতিনিধি হিসেবেও শীর্ষ দশে নিজের অবস্থান হারালেন ৩৯ বছর বয়সী সার্বিয়ান তারকা জোকোভিচ। রজার ফেদেরার ৪১ বছর বয়সে ২০২২ সালে এবং রাফায়েল নাদাল ৩৮ বছর বয়সে ২০২৪ সালে টেনিসকে বিদায় জানান। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে জোকোভিচ ২৪টি মেজর শিরোপা জিতেছেন, যা নাদালের ২২ এবং ফেদেরারের ২০টি গ্র্যান্ড স্লাম জয়কে ছাড়িয়ে গেছে। ২০০২ সালের অক্টোবরে যখন সর্বশেষ এই তিন তারকার কেউ শীর্ষ দশে ছিলেন না, তখন র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ছিলেন লেইটন হেউইট। সময়ের পরিক্রমায় আজ তাঁরই ১৭ বছর বয়সী পুত্র ক্রুজ হেউইট বিশ্ব টেনিসে উদীয়মান তারকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন।

ফেদেরার, নাদালের পর জকোভিচও শীর্ষ ১০-এর বাইরে চলে গেলেন

ইউএস ওপেনের হৃদয়বিদারক বিদায় ১৫ দিন আগে ইউএস ওপেনের প্রথম রাউন্ডেই আর্জেন্টিনার মারিয়ানো নাভোনের কাছে ৭-৬ (৫), ৫-৭, ৪-৬, ৬-২, ৬-১ সেটে পরাজিত হন জোকোভিচ। ৪ ঘণ্টা ৩৬ মিনিটের এই ম্যারাথন ম্যাচটি ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের দীর্ঘতম গ্র্যান্ড স্লাম ওপেনার। ২০০৬ সালের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের পর এটিই ছিল তাঁর দীর্ঘতম ও সবচেয়ে দ্রুততম গ্র্যান্ড স্লাম বিদায় এবং ইউএস ওপেনের মূল পর্বে নিজের উদ্বোধনী ম্যাচে তাঁর প্রথম পরাজয়।

ম্যাচ শেষে জকোভিচ হতাশা লুকাননি। ৭dটি আনফোর্সড ভুলের পসরা সাজানো ওই ম্যাচে তিনি শারীরিক অসুস্থতার কথাও স্বীকার করেন। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, “আমি খেলাটি উপভোগ করতে পারিনি। কোর্টে আমার অনুভূতি অত্যন্ত জঘন্য ছিল। পুরো বছর ধরে আমি এই শারীরিক সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি—বমি ভাব, শরীর ভেঙে পড়া, ক্র্যাম্প এবং প্রচণ্ড ব্যথা। শেষ পর্যন্ত আমার পিঠ এবং কাঁধ দুটোই কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছিল।”

কাজে লাগেনি অভিজ্ঞতা, অনিশ্চয়তায় ভবিষ্যৎ নিউইয়র্কে নিজের ইউএস ওপেন অভিষেকের ঠিক ২১ বছর পূর্তির দিনে এই হারের পর জকোভিচের টেনিস ক্যারিয়ার নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। এটিই তাঁর শেষ গ্র্যান্ড স্লাম ম্যাচ কি না, তা নিয়ে ভক্তদের মনে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বলতে গিয়ে জকোভিচ জানান, “অতীতে আমি যা অর্জন করেছি তা নিয়ে আমি গর্বিত, কিন্তু এখনকার বাস্তবতা সম্পূর্ণ আলাদা। আমার শরীর আসলে কতদূর পর্যন্ত এই ধকল সহ্য করতে পারবে, তা নিয়ে আমাকে গভীরভাবে ভাবতে হচ্ছে।”