গণতন্ত্রকে সচল রাখতে নিরপেক্ষ নির্বাচনের আহ্বান রিজভীর

আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, গণতন্ত্রকে সচল ও শক্তিশালী রাখতে নিরপেক্ষ নির্বাচনের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে হবে। সর্বজনীন শিক্ষা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন ছাড়া প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে এসব কথা বলেন রিজভী। আগামীকাল ১৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস পালিত হবে।

বাণীতে রিজভী বলেন, গণতন্ত্র সম্পর্কে আগ্রহ সৃষ্টি এবং আইনের শাসন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নাগরিক অধিকার, মানবাধিকার ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে বিশ্বজুড়ে এ দিবসটি পালন করা হয়। গণতন্ত্র অর্জনের সংগ্রামে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান তিনি। একই সঙ্গে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং আহতদের প্রতি সমবেদনা জানান বিএনপির এই নেতা।

তিনি বলেন, মানবাধিকার রক্ষায় গণতন্ত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এমন একটি পরিবেশ তৈরি করে যেখানে মানুষের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা সুরক্ষিত থাকে এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা জনগণের সেবা ও ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সচেষ্ট হন। গণতন্ত্রের চর্চা অব্যাহত থাকলে কোনো স্বৈরশক্তিই মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে না এবং জনগণকে ক্রীতদাসে পরিণত করাও সম্ভব হয় না।

বিভিন্ন দেশে একদলীয় দুঃশাসনের কালো থাবা এখনও বিরাজ করছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, বাংলাদেশেও দেড় দশক ধরে নাগরিক স্বাধীনতা, ভোটাধিকার, মানবিক মর্যাদা ও মানবাধিকার উচ্ছেদ করে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম ছিল। নানা কালাকানুনের মাধ্যমে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছিল এবং ভিন্নমতের কারণে অনেকে গুম, খুন ও আইনবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

রিজভী আরও বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা ও সাজানো মামলায় কারাগারে আটকে রাখা হয়েছিল। একইভাবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপরও মিথ্যা মামলায় সাজা দেওয়ার মাধ্যমে বর্বরোচিত অত্যাচার চালানো হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, দেশবাসী ১৬ বছর এক ভয়াবহ দুর্দিন অতিক্রম করেছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ঐতিহাসিক রক্তস্নাত আন্দোলনের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারের পতন হয়েছে। এরপর গত ১২ ফেব্রুয়ারির অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে প্রকৃত গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলেও বাণীতে উল্লেখ করেন তিনি।

বর্তমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করে গণতন্ত্রকে স্থায়ী রূপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, গণতন্ত্রকে সচল রাখতে নিরপেক্ষ নির্বাচনের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে হবে। সর্বজনীন শিক্ষা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বাণীতে নারী-পুরুষসহ সব লিঙ্গের মানুষের সমান অংশগ্রহণ ও সুযোগ নিশ্চিত করার কথাও বলেন রিজভী। তার মতে, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজে লিঙ্গের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বৈষম্য থাকা উচিত নয়; বরং সবার জন্য সমান আইনি ও সামাজিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

সবশেষে রিজভী বলেন, ‘আমরা দুঃসময় কাটিয়ে উঠে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছি, এখন কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলার সার্বিক প্রচেষ্টায় আমাদেরকে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।’