স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্র সাংবাদিক, কাহিনিকার ও চিত্রনাট্যকার সংলাপ রচয়িতা মুজতবা সউদকে স্মরণ করেছে সুহৃদ ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকাল চারটায় বিএফডিসি'র জহির রায়হান কালার ল্যাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় এই স্মরণানুষ্ঠান। এতে চলচ্চিত্র অঙ্গনে মুজতবা সউদ এর দীর্ঘদিনের অবদান ও কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন সহকর্মী, চলচ্চিত্রকর্মী ও সংস্কৃতিজনেরা।
চলচ্চিত্র সাংবাদিক শরীফুল আজমের সভাপতিত্বে ও সৌমিক হাসান সোহাগের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মুজতবা স উদকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন ঢালিউডের এক সময়ের মেগাস্টার আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল, কিংবদন্তি অভিনেতা আলমগীর, চিত্রনায়ক বাপ্পারাজ, আমিন খান, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামাল, সিনিয়র সাংবাদিক চিন্ময় মুৎসুদ্দি, চলচ্চিত্র পরিচালক ছটকু আহমেদ,শাহ আলম কিরণ, রায়হান মুজিব,মুশফিকুর রহমান গুলজার, চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি শাহীন সুমন, প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল, অভিনেত্রী ফাল্গুনী হামিদ, ম. হামিদ প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, মুজতবা সউদ চলচ্চিত্র সাংবাদিকতার পাশাপাশি কাহিনি, চিত্রনাট্য ও সংলাপ রচনায়ও ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ। চলচ্চিত্রের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ এবং সহকর্মীদের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক তাঁকে স্বতন্ত্র পরিচিতি এনে দিয়েছিল। মানুষ হিসেবে তিনি সর্বজন সমাদৃত ছিলেন। স্মরণসভায় বক্তারা আরও বলেন, মুজতবা সউদ শুধু সাংবাদিক বা চিত্রনাট্যকারই ছিলেন না; চলচ্চিত্রের ইতিহাস এবং শিল্পী ও কলাকুশলীদের কর্মজীবন নিয়েও তিনি নিয়মিত লেখালেখি করতেন। তার লেখায় চলচ্চিত্র অঙ্গনের বহু গুণী মানুষের কর্ম ও অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা হয়েছে।
স্মরণসভায় তার রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়। মুজতবা সউদ বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি (বাচসাস)-এর সক্রিয় সদস্য ছিলেন। চলচ্চিত্র সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রের কাহিনি ও সংলাপ রচনা করেন। ‘চাঁদের মতো বউ’ চলচ্চিত্রের জন্য ২০০৯ সালে শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পায়।
গত ৩০ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টায় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মুজতবা সউদ মৃত্যুবরণ করেন। পরে তাঁকে মিরপুরের কালশী কবরস্থানে দাফন করা হয়।