প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেকেই রূপকথার মতো পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট ইতিহাসে নাম লিখিয়েছেন ১৮ বছর বয়সী তরুণ পেসার জেজে ব্যাসন। স্কুলপড়ুয়া এই কিশোর লায়ন্স দলের হয়ে অভিষিক্ত লাল বলের ম্যাচে ৯৯ রান খরচায় শিকার করেছেন ১১ উইকেট। যা দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষিক্ত কোনো পেসারের সেরা ম্যাচ ফিগার। তার এই পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং কোচ ও কিংবদন্তি পেসার অ্যালান ডোনাল্ড তাকে কাগিনো রাবাদার সঙ্গে তুলনা করে বলেছেন, "এমন তরুণ মাঝে মাঝে আসে, যাকে আগলে রাখতে ইচ্ছে করে।"
চলতি বছরের শুরুতে দক্ষিণ আফ্রিকার অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে সফল সময় কাটানো ব্যাসন বর্তমানে জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি সপ্তাহের মুখোমুখি, যেখানে তাকে চূড়ান্ত স্কুল পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। তবে ক্রিকেট মাঠে তার আত্মপ্রকাশ ছিল দারুণ চমকপ্রদ। বোল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে দলের মূল পেসাররা অনুপস্থিত থাকায় প্রথম ম্যাচেই বোলিং আক্রমণের নেতৃত্ব দিতে হয় তাকে। প্রথম ইনিংসে ৬২ রান দিয়ে ৭ উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও তিনি তুলে নেন বাকি ৪ উইকেট।
তার শিকারের তালিকায় ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার দুইবারের টেস্ট অধিনায়ক নিল ব্র্যান্ড এবং বোল্যান্ডের অভিজ্ঞ ওপেনাররা। ব্যাসন জানান, ক্লিন বোল্ড করে নিল ব্র্যান্ডকে আউট করাটাই ছিল তার ম্যাচের সেরা মুহূর্ত।
তরুণ এই পেসারের নিবেদন, লেফট-আর্ম পেস অ্যাকশন এবং নিখুঁত লাইন-লেংথে মুগ্ধ অ্যালান ডোনাল্ড তাকে ভবিষ্যৎ তারকা হিসেবে দেখছেন। রাবাদার ক্যারিয়ারের শুরুর দিনের কথা স্মরণ করে ডোনাল্ড বলেন, "কাগিসো রাবাদাকে প্রথম যখন অ্যাডিলেড ওভালে দেখেছিলাম, তখনই বুঝতে পেরেছিলাম। জেজে ব্যাসনও তেমনই একজন দুর্দান্ত আবিষ্কার। ২৮ বছর বয়সি বোলাররা ক্যারিয়ারে যা একবার করে, এই ছেলেটি এমন এক স্পেল করে দেখিয়েছে।"
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এমন রেকর্ড গড়ার পর স্বাভাবিকভাবেই পরবর্তী ম্যাচের স্কোয়াডে তার থাকার কথা ছিল। তবে ব্লুমফন্টেনে নাইাইটসের বিপক্ষে লায়ন্সের পরবর্তী ম্যাচে তিনি দলের সঙ্গে ভ্রমণ করছেন না। এ বিষয়ে ডোনাল্ড স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ক্রিকেটের আগে পড়াশোনাকেই প্রাধান্য দিতে হবে। পরীক্ষা শেষেই পুরোপুরি ক্রিকেটে মনোনিবেশ করবেন রেকর্ড গড়া এই কিশোর সেনসেশন।