ব্যাংকারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, সুইসাইড নোট উদ্ধার

‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। আমাকে সবাই ক্ষমা করে দেবেন। আমার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে আপনারা দেখে রাখবেন।’ চিরকুটে এ কথা লিখে চট্টগ্রামে আত্মহত্যা করেছেন মোহাম্মদ আবুল হোসাইন (৪৬) নামে জনতা ব্যাংকের এক কর্মকর্তা। 

মারা যাওয়া আবুল হোসাইনের গ্রামের বাড়ি সন্দ্বীপের সারিকাইত ইউনিয়নে। তিনি জনতা ব্যাংক মুরাদপুর শাখার ঋণ শাখার সহকারী ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

সোমবার(১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে হালিশহরের এ ব্লকের নিজ বাসা থেকে ওই ব্যাংকারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহের পাশ থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়। চিরকুটে ব্যাংকের ঋণ বিতরণ নিয়ে চাপ, একটি মামলার কারণে দুশ্চিন্তা এবং নিজের আর্থিক সংকটের কথাও উল্লেখ করেন আবুল হোসাইন।

হালিশহর থানার ওসি মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন মন্ডল বলেন, ‘সোমবার সকালে খবর পেয়ে পুলিশ বাসা থেকে ব্যাংক কর্মকর্তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা মনে হচ্ছে। মরদেহের পাশ থেকে একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

মরদেহের পাশ থেকে পাওয়া চিরকুটে তিনি লিখেছেন, ‘মুরাদপুর শাখার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে নানাবিধ প্রেশার,  লোন দেওয়া না দেওয়া, ফাইল আরও কত কী?’ এতে আরও লেখা হয়, ‘ব্যবসার বকেয়া ও মানুষের কাছে পাওনা টাকা আদায় না হওয়ায় তিনি আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন।’ ওই সংকটের মধ্যে গত ৪ আগস্ট স্ত্রীর নামে থাকা একমাত্র ফ্ল্যাটটিও বিক্রি করতে বাধ্য হন বলে উল্লেখ করা হয় চিঠিতে।

চিঠিতে ২০২১ সালের একটি ঋণ বিতরণের বিষয়ও এসেছে। এতে তিনি উল্লেখ করেন, ওই ঋণ বিতরণকে কেন্দ্র করে লালদীঘি শাখার তৎকালীন ব্যবস্থাপক হিসেবে তার এবং আরও তিন সহকর্মীর বিরুদ্ধে একটি সিআর মামলা করা হয়েছে। ‘আমি নির্দোষ ও নিরপরাধ শতভাগ। এ চিন্তায় গত দুই সপ্তাহ যাবৎ আমি ঘুমাতে পারি নাই’ উল্লেখ ছিল চিঠিতে। নিজের স্ত্রী সম্পর্কে আবুল হোসাইন লিখেছেন, ‘আমার স্ত্রীর মতো এত মমতাময়ী, দরদি স্ত্রী পাওয়া আমার সৌভাগ্য।’ তার দুই সন্তানের একজন ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। অন্যজনও রয়েছে পরিবারের সঙ্গে।