আসছে ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান আইডি’ প্রকল্প

দেশের প্রতিটি নাগরিকের নির্ভরযোগ্য তথ্যভা-ার তৈরি এবং সরকারি সেবা আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান আইডি’ প্রকল্প শিগগিরই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উঠবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। তিনি বলেন, প্রকল্পটি প্রায় সম্পন্ন পর্যায়ে রয়েছে এবং প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি শেষ হলে এটি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে আসবে।

গতকাল সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নভো থিয়েটারের অডিটরিয়াম হলে ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসিই বিভাগের অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ হোসাইনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের জনসংখ্যা ও নাগরিকদের তথ্য নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন রয়েছে। নির্ভরযোগ্য তথ্য ছাড়া জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন শ্রেণি ও অংশের জন্য সঠিক নীতি ও কর্মসূচি গ্রহণ করা কঠিন। এ কারণে সরকার পুরো তথ্যব্যবস্থাকে একটি নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে চায়। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগকে সম্পূর্ণ পেশাদারভাবে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশের মানুষের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে সরকারি নীতি নির্ধারণের ব্যবস্থা করা হবে।

জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান আইডি’ ব্যবস্থা কার্যকর করা গেলে দেশের পুরো জনগোষ্ঠী সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন অংশের অবস্থান ও প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারের কী ধরনের নীতি ও কর্মসূচি নেওয়া প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করা সহজ হবে। প্রকল্পটি পরিকল্পনার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। খুব শিগগিরই এটি একনেকে উপস্থাপন করা হবে।

তিনি বলেন, রাষ্ট্র যদি নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে নাগরিকের কাছ থেকেও দায়িত্ব প্রত্যাশা করতে পারে। নাগরিকের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য রাষ্ট্রের সেবা ও নীতি সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছানো জরুরি। এ ক্ষেত্রে একটি নির্ভরযোগ্য নাগরিক তথ্যব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

দেশের পিছিয়ে পড়া মানুষদের নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শারীরিকভাবে ভিন্ন সক্ষমতাসম্পন্ন মানুষসহ দেশের সব নাগরিককে রাষ্ট্রের নীতি ও সেবার আওতায় আনতে হবে। কাউকে বাদ না দিয়ে পুরো জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করে নীতি প্রণয়ন করতে চায় সরকার। নাগরিকদের তথ্যের ভিত্তিতে সামাজিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচির সুবিধা সঠিক ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। একজন নাগরিকের জন্য সরকার কী ধরনের কর্মসূচি নিচ্ছে, তার প্রয়োজন ও অবস্থার ভিত্তিতে তা নির্ধারণ করা সহজ হবে।

তিনি আরও বলেন, নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে দেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগানোর জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা আরও কার্যকরভাবে করা যাবে। কে কোন ধরনের দক্ষতা অর্জন করতে পারে, কার জন্য কোন ধরনের প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ প্রয়োজন, তা নির্ধারণে এই তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।

রেমিট্যান্স নিয়ে জোনায়েদ সাকি বলেন, বাংলাদেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ করে তুলতে পারলে বিদেশে কর্মসংস্থান ও বৈশ্বিক শ্রমবাজার থেকে বড় ধরনের আয় সম্ভব। ন্যূনতম দক্ষতা অর্জন করে একজন তরুণ মাসে ১ হাজার ডলার এবং আরও পেশাদার দক্ষতা অর্জন করলে ২ হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত আয় করতে পারেন। সরকারের আগামী চার বছরের পরিকল্পনা অনুযায়ী কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া গেলে বর্তমানের তুলনায় তিনগুণ রেমিট্যান্স অর্জন সম্ভব।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে একটি জ্ঞানভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে হবে। এ ধরনের ইনোভেশন ফেয়ার তরুণ উদ্ভাবক, উদ্যোক্তা, গবেষক, শিক্ষার্থী ও শিল্প খাতের মধ্যে যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও প্রকল্প বাস্তবায়নে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় আরও জোরদার করা প্রয়োজন। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সমন্বয় বৃদ্ধির মাধ্যমে উন্নয়ন প্রকল্পে ওভারল্যাপিং ও ডুপ্লিকেশন বন্ধ করতে হবে। এতে সরকারি সম্পদের সর্বোচ্চ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় ও ব্যয় কমানো সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বাংলাদেশের উদ্ভাবন ও দক্ষতা উন্নয়নের সম্ভাবনা, প্রযুক্তির ব্যবহার, শিল্প-অ্যাকাডেমিয়া সহযোগিতা এবং তরুণ প্রজন্মকে ভবিষ্যতের কর্মবাজারের জন্য প্রস্তুত করার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।