ভুয়া পরোয়ানার (ওয়ারেন্ট) মাধ্যমে গ্রেপ্তার ও হয়রানি রোধে কেন্দ্রীয় ডেটা ব্যবস্থাপনা সিস্টেম থেকে পরোয়ানার সত্যতা যাচাই করতে নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। এই নির্দেশনার বিষয়টি উল্লেখ করে পরিপত্র জারি করতে পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের ওপর চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে গতকাল সোমবার বিচারপতি কেএম হাফিজুল আলম ও বিচারপতি মুরাদ-এ-মওলা সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ রায় দেন।
ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানার মাধ্যমে বিরোধীপক্ষকে গ্রেপ্তার ও হয়রানির বিষয়ে ২০১৩ সালে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট আবেদন করে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে একই বছরের ৩০ জানুয়ারি রুল দেন হাইকোর্ট।
পাশাপাশি ২০১২ সালে আরিফ নিয়াজী নামের এক ব্যক্তিকে ভুয়া পরোয়ানার মাধ্যমে গ্রেপ্তারের বিষয়ে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। সেই রিট আবেদনের ওপর শুনানি শেষে গতকাল এ রায় হলো।
রায়ে হাইকোর্ট বলেছে, ‘যেকোনো নাগরিককে গ্রেপ্তার করতে হলে ফৌজদারি কার্যবিধির যে বিধিবিধান রয়েছে, তা অনুসরণ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। নতুবা আইনের ব্যত্যয় হবে। অন্যদিকে ভুয়া পরোয়ানার মাধ্যমে গ্রেপ্তার হলে একজন নাগরিকের মৌলিক অধিকার, সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন হয়, যেটা নিশ্চিত করা সব শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব।’ আদালত আরও বলে, ‘মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সে কারণেই কোনো মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে এবং গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন অত্যন্ত প্রয়োজন নয়তো নাগরিকের যে ক্ষতি হয়, তা পূরণ করা সম্ভব হয় না।’
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী মোহাম্মদ ছারওয়ার আহাদ চৌধুরী ও সঞ্জয় ম-ল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জে আর খান রবিন। অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, রায়ে হাইকোর্ট বলেছেন, ‘সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা যদি পরোয়ানার সত্যতা যাচাই না করেন কিংবা যে পরোয়ানার মাধ্যমে আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন, সেই পরোয়ানা যদি পরে ভুয়া বলে প্রমাণিত হয় তাহলে ওই পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্বে অবহেলা বা অসদাচরণ বলে গণ্য হবে।’ তিনি আরও বলেন, হাইকোর্ট সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে অধস্তন আদালতের সব পর্যায়ের বিচারকের প্রতি রায়ের এই নির্দেশনা পাঠাতে বলেছেন। যেকোনো নালিশি মামলা দায়েরের সময় বাদী ও আইনজীবীর পরিচয় নিশ্চিতে আইনজীবীর পেশাগত পরিচয়ের কার্ড এবং বাদীর জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) কপি মামলার সঙ্গে সংযুক্তি ব্যবস্থা নিতেও নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।