গাজীপুরের জয়দেবপুরে ডোবার পানিতে ভাসমান সুটকেস এবং বস্তা থেকে দ্বিখন্ডিত ও অর্ধগলিত নারীর লাশ উদ্ধারের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তার নাম ডলি আক্তার। পাঁচ বছরের প্রেমের সম্পর্ক, বিয়ে নিয়ে বিরোধ ও জমে থাকা ক্ষোভ থেকে তাকে হত্যা করে প্রেমিক মিশন ইসলাম। পরে বঁটি ও ব্লেড দিয়ে মরদেহ দ্বিখন্ডিত করে সুটকেস ও বস্তায় ভরে খালে ফেলে দেওয়া হয়। গতকাল সোমবার দুপুরে পিবিআই গাজীপুর জেলা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআই পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার।
এ ঘটনায় প্রেমিক মিশন ইসলাম তার মা বানু আক্তার ও সহযোগী মিজানুর রহমান মিল্টনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার তিনজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। নিহত ডলি আক্তার ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার পাহাড়পাবিজান গ্রামের বাদশা মিয়ার মেয়ে। স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর তিনি জয়দেবপুর থানার বানিয়ারচালা মেম্বারবাড়ী এলাকায় ভাড়া বাসায় একা থাকতেন। সেখানে তিনি বাঘের বাজার এলাকার গোল্ডেন রিপিট গার্মেন্টসে কাজ করতেন।
পিবিআই জানায়, গত শুক্রবার বিকেলে জয়দেবপুরের ভবানীপুর এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশের একটি খালে সুটকেস ও প্লাস্টিকের বস্তা ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ সেগুলো থেকে এক নারীর দ্বিখন্ডিত ও অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে। তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও অন্যান্য তদন্তের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
পুলিশ সুপার রকিবুল আক্তার বলেন, গার্মেন্টসে চাকরির সুবাদে মিশনের সঙ্গে ডলির প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায় পাঁচ বছর ধরে তাদের সম্পর্ক চলছিল। গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে মিশনের বাসায় যান ডলি। সেখানে রাতে তারা একই কক্ষে অবস্থান করেন। বিয়ে নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে ডলিকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ান মিশন। পরে লুঙ্গি ও বালিশ দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়। মরদেহ পরদিন সকাল পর্যন্ত চৌকির নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। সকালে মিশনের মা মরদেহটি দেখতে পান এবং গুমের পরিকল্পনায় যুক্ত হন। মরদেহ সুটকেসে না ধরায় বঁটি ও ব্লেড দিয়ে কোমর থেকে দ্বিখন্ডিত করে একাংশ সুটকেসে এবং অপর অংশ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরা হয়। এরপর মিশনের বন্ধু মিজানুর রহমান মিল্টনকে ডেকে আনা হয়। তার সহযোগিতায় অটোরিকশায় করে সুটকেস ও বস্তাটি ভবানীপুর এলাকায় নিয়ে ব্রিজের ওপর থেকে খালে ফেলা হয়।
রকিবুল আক্তার আরও বলেন, এ ঘটনায় গত শনিবার নিহতের ভাই সোহেল বাদী হয়ে জয়দেবপুর থানায় মামলা করেন। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। তদন্তের ধারাবাহিকতায় মিশন ইসলাম, তার মা বানু আক্তার ও মিল্টনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আসামিদের তথ্যের ভিত্তিতে মিশনের বাসা থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত বটি, নিহত ডলির পরিচয়পত্র, মুঠোফোন ও জুতা উদ্ধার করা হয়েছে।