খুলনায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ

খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে এবং তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। গত কয়েক দিন ধরে রেকর্ড নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে; লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যানুযায়ী, খুলনা বিভাগে গত শনিবার ২৫২ ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়, তার পর দিন ২৭৫ জন এবং সর্বশেষ গতকাল সোমবার ৩০২ জন ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।

খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তরের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত এই বিভাগে মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৯ হাজার ১০৯ জন, এর মধ্যে শুধু খুলনা জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে তিন হাজার প্রায়। এ বছর বিভাগে ৩০ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে সর্বোচ্চ ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে প্রায় এক হাজার ১০০ রোগী চিকিৎসাধীন। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যানুযায়ী, খুলনা বিভাগে চলতি মাসের ৬ সেপ্টেম্বর সর্বোচ্চ ৩৩৪ ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এর মধ্যে খুলনা জেলায় ১৬৪ রোগী ভর্তি হন।

ডেঙ্গু আক্রান্তের হার হঠাৎ তীব্র আকার ধারণ করায় সম্প্রতি খুলনার সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে দেখা দিয়েছে তীব্র শয্যা সংকট। হাসপাতালগুলোতে বর্তমানে তিল ধারণেরও ঠাঁই নেই। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং খুলনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গুরোগীদের জন্য ডেডিকেটেড ওয়ার্ডও রোগীতে ভর্তি। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা রোগী সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

খুলনায় ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে শিশুদের অবস্থাও ভয়াবহ। খুলনা শিশু হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. প্রদীপ দেবনাথ জানিয়েছেন, গত কয়েক মাস ধরে খুলনা শিশু হাসপাতালের ২৭৫টি সিট সবসময় পূর্ণ থাকে। এর মধ্যে প্রায় ১৫ শতাংশ শিশু ডেঙ্গু আক্রান্ত। বিশেষ করে খুলনা সদরের অধিকাংশ শিশুরা ডেঙ্গু ঝুঁকিতে আছে। এখানে অল্পসংখ্যক শিশুদের ডেঙ্গু চিকিৎসা দেওয়া হয়। অন্যদের সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ৩০২ জনের মধ্যে ২৪৬ জন সরকারি হাসপাতালে এবং ৫৬ জন বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছেন। জেলাভিত্তিক সংক্রমণের মধ্যে খুলনা জেলায় সর্বোচ্চ ১১৯ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া বাগেরহাটে ৪৬ জন, ঝিনাইদহে ২৪, যশোরে ২০, কুষ্টিয়ায় ১২ জন আক্রান্ত হন।

খুলনা গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. গাজী মিজানুর রহমান বলেন, বর্তমানে আমাদের মেডিকেলে ডেঙ্গুরোগীর সংখ্যা ১০৬ জন। অনেক রোগী ফেরত দিতে হচ্ছে। খুলনায় রোগীদের স্বজনদের মাধ্যমে ডেঙ্গু বেশি সংক্রমিত হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির পানি জমে এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। তিনি অপর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বর্ষায় জমে থাকা পানিতে যাতে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে না পারে, সে জন্য মাইকিং করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারে আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে খুলনা সিটি করপোরেশন নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডকে তিন ভাগে ভাগ করে দিনে দুবার ফগিং ও স্প্রে কার্যক্রম চালাচ্ছে। খুলনার সিভিল সার্জন অফিস থেকে নাগরিকদের ঘরের চারপাশ পরিষ্কার রাখতে এবং ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহারের নির্দেশনা দিয়েছে।