জনতা ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু: নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

ঋণ দেওয়া-না দেওয়া, বদলি, আর্থিক সংকট এবং পুরোনো একটি মামলায় নিজের নাম আসার বিষয় উল্লেখ করে চিরকুট রেখে জনতা ব্যাংক পিএলসির কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় ব্যাংকিং খাতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক কর্মকর্তা ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান এবং শোক প্রকাশ করেন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক কর্মকর্তা ঐক্য পরিষদের নেতারা।

গত সোমবার ভোরে চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর এলাকা থেকে জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে তার লেখা একটি চিরকুটও উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

আবুল হোসেন জনতা ব্যাংকের মোহাম্মদপুর জিবি শাখায় দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার চিরকুটে দায়িত্ব পালনের সময় ঋণ দেওয়া-না দেওয়া নিয়ে বিভিন্ন সমস্যা, বদলি এবং কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কাছে পাওনা টাকা না পাওয়ায় আর্থিক সংকটে থাকার কথা উল্লেখ রয়েছে। স্ত্রী ও দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগের কথা লিখেছেন তিনি।

চিরকুটে ২০২১ সালের একটি চেকসংক্রান্ত মামলার কথাও উল্লেখ করেন আবুল হোসেন। সম্প্রতি ওই মামলায় তার সঙ্গে আরও তিন সহকর্মীর নাম রয়েছে বলে জানতে পারেন তিনি। নিজেকে ওই ঘটনায় নির্দোষ দাবি করে মামলার বিষয়টি জানার পর গত দুই সপ্তাহ ধরে ঘুমাতে না পারার কথাও চিরকুটে উল্লেখ করেছেন।

এ ঘটনায় ঋণ অনুমোদন ও বিতরণের ক্ষেত্রে ব্যাংক কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত দায় কতটুকু—সে প্রশ্নও সামনে এসেছে। ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঋণ অনুমোদন, বিতরণ ও আদায়ের ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব ও জবাবদিহির মধ্যে থাকতে হয়। কোনো ঋণ নিয়ে পরবর্তী সময়ে অনিয়মের অভিযোগে মামলা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন।

বিশেষ করে কোনো ঋণ অনুমোদন ও বিতরণের দীর্ঘ সময় পর মামলা হলে ওই সময়ের কর্মকর্তা, পরবর্তী সময়ে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ভূমিকা আলাদাভাবে নির্ধারণের প্রয়োজন হয়। কর্মকর্তাদের একাংশের অভিযোগ, ঋণ বিতরণের সময় এক ধরনের চাপ এবং পরবর্তী সময়ে ঋণখেলাপি হলে আরেক ধরনের চাপের মধ্যে থাকতে হয় তাঁদের।

তবে মোহাম্মদ আবুল হোসেনের মৃত্যুর সঙ্গে এসব বিষয় সরাসরি সম্পর্কিত কি না, তা তদন্তের আগে বলা সম্ভব নয়।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক কর্মকর্তা ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মো. মোতাহের হোসেন বলেন, “মোহাম্মদ আবুল হোসেনের অকালমৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত করতে হবে। তদন্তের মাধ্যমে কোনো চাপ, হয়রানি বা অন্য কোনো কারণ থাকলে তা বের করে আনতে হবে।”

জনতা ব্যাংকের চট্টগ্রাম শাখার ডিজিএম মহিউদ্দিন আওরঙ্গীজেব দেশ রূপান্তরকে বলেন, “মোহাম্মদ আবুল হোসেনের মৃত্যুর খবর শুনে আমি খুবই মর্মাহত হয়েছি। তিনি একজন সৎ ও ভালো কর্মকর্তা ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে অফিশিয়ালি এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই প্রকৃত কারণ সম্পর্কে জানা যাবে বলে আশা করছি।”

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্ত ও তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে।