খাতা দেখায় অবহেলাকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে 'জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাবৃত্তি ও ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে' প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এসএসসির খাতা চ্যালেঞ্জ করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী। প্রশ্ন জাগে, এত বেশি পরিবর্তন কীভাবে হল? তাহলে কি এই পরীক্ষকদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত নয়? যে পরীক্ষকেরা খাতা ঠিকমতো মূল্যায়ন করেননি, তাদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকদের উপস্থিতি এবং শিক্ষকেরা কীভাবে পাঠদান করছেন, তা কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা দরকার। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা কলেজগুলো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় শ্রেণিকক্ষ পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করতে পারে।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে দেশের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেন। তাই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান আরও উন্নত করা জরুরি। শিক্ষার্থীদের জন্য বাজারের চাহিদানুগ কোর্স চালু, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও কারিকুলাম আধুনিকীকরণ অত্যন্ত প্রয়োজন।
শিক্ষাক্ষেত্রে পরিবর্তনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের প্রকৃত উন্নয়ন করতে হলে শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন আনা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। ইতোমধ্যে শিক্ষা বাজেটে জিডিপির ২ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আগামী বছর চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণীতে ৪টি নতুন বই পাঠ্যক্রমে যুক্ত করা হচ্ছে। এ ছাড়া ২০২৮ সালের কারিকুলাম পরিমার্জন করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। এ জন্য গবেষণা খাতেও পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখা হয়েছে। শিক্ষার প্রকৃত পরিবর্তন আনতে বরাদ্দ করা অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে, যার জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক। অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভাইস চ্যান্সেলর মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ শুভেচ্ছা বক্তব্য এবং প্রফেসর মো. লুৎফর রহমান স্বাগত বক্তব্য দেন।
এ বছর মোট ৫৭ জন শিক্ষার্থীকে 'ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড' দেওয়া হয়। শিক্ষামন্ত্রী তাদের প্রত্যেকের হাতে সনদপত্র, ক্রেস্ট ও ২৫ হাজার টাকার চেক তুলে দেন। এ ছাড়া ২০২৫ সালে মোট ২ হাজার ৮৯৭ জন শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল থেকে ৬ হাজার টাকা হারে মোট ১ কোটি ৭৩ লাখ ৮২ হাজার টাকার শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে।