ডায়াবেটিস থাকলে শর্করা জাতীয় খাবার একটু বুঝে শুনে পরিমাপ করে খেতে হয়। খাওয়া-দাওয়া নিয়ন্ত্রণে না থাকলে সুগার লেভেল ওঠানামা করবেই। ডায়াবেটিস ধরা পড়লেই সবার আগে বাদ চলে যায় ভাত-রুটি। কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে, ভাত-রুটি খেয়েও সুস্থ থাকা যায়। সমস্যা হলো, বেশিরভাগ মানুষই খাওয়া শুরু করেন ভাত-রুটি দিয়েই। তাই বাড়ে রক্তে শর্করার মাত্রা।
থালায় যা আছে, ইচ্ছামতো খেলে চলবে না। প্রতিটা খাবার নিয়ম মেনে খেতে হবে। পদের ক্রমটা ঠিকভাবে সাহায্য করবে। এই পদ্ধতিকে বলে ‘ফুড সিকোয়েন্সিং’। অর্থাৎ কোন খাবার আগে খাবেন এবং কোনটা পরে।
সবার প্রথমে খেতে হবে শাকসবজির পদ। তারপর প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট। আর একদম শেষে ভাত, রুটি বা অন্য কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার। কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার দ্রুত গ্লুকোজে পরিণত হয়। তাই ভাত-রুটি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যায়। এর বদলে প্রথমে ফাইবার সমৃদ্ধ শাকসবজি, প্রোটিন ও ফ্যাট খেলে গ্লুকোজ শোষণের গতি শ্লথ হয়ে যায়। ফাইবার ও প্রোটিন আগে খেলে খাবার পাকস্থলী থেকে অন্ত্রে ধীরে ধীরে পৌঁছয়। তারপর যখন কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ করেন এবং সেখান থেকে যে গ্লুকোজ তৈরি হয়, তা দ্রুত রক্তে প্রবেশ করে না। বরং ধীরে ধীরে শোষিত হয়। তাই খাবার খাওয়ার পরে চট করে সুগার লেভেল বাড়ে না। তাই কার্বোহাইড্রেট বাদ না দিয়ে এভাবে খাবার খান।
ফাইবার, প্রোটিন, ফ্যাট ও কার্বোহাইড্রেট এই ক্রমে খাবার খেলে মেটাবলিক স্বাস্থ্যও উন্নত হয়। এভাবে খাবার খেলে চট করে খিদে পায় না। রিফাইন্ড কার্বস বা মুখরোচক খাবার খাওয়ার ইচ্ছেও কমে যায়। পাশাপাশি শরীরে কাজ করার এনার্জি থাকে আর ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখাও সহজ হয়।