মৌলভীবাজারে ২৮ মামলার আসামী গ্রেপ্তার

মৌলভীবাজারে জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) বিশেষ অভিযানে একটি চোরাই মোটরসাইকেলসহ ২৮ চুরির মামলার পরোয়ানাভূক্ত ও সক্রিয় চোরচক্রের মূলহোতা মিল্টন সরকারকে (৪৯) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ৪টার দিকে শ্রীমঙ্গল থানাধীন হবিগঞ্জ রোডস্থ নুর ফুডস অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের সামনের শ্রীমঙ্গল-হবিগঞ্জ মহাসড়কে ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল চেকপোস্ট বসিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে এক প্রেস রিলিজের মাধ্যমে জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

​পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের এসআই (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ আজিজুল গাফফারের নেতৃত্বে ডিবি টিম ওই এলাকায় অবস্থান নেয়। রাত ৪টার দিকে শ্রীমঙ্গল থেকে হবিগঞ্জগামী একটি নম্বরপ্লেটবিহীন মোটরসাইকেলকে থামার সংকেত দেওয়া হলে চালক উল্টো দিকে ঘুরে পালানোর চেষ্টা করে। পুলিশ সদস্যরা পিছু ধাওয়া করে তাকে আটক করেন। ​পরবর্তীতে তল্লাশিকালে মোটরসাইকেলের কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হলে উপস্থিত সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের নীল-কালো রঙের ১৫৫ সিসি ইয়ামাহা মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়।

​প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, গ্রেপ্তারকৃত মিল্টন সরকার একজন পেশাদার ও সংঘবদ্ধ মোটরসাইকেল চোরচক্রের অন্যতম মূলহোতা। সে পরিচয় গোপন করতে মিল্টন কুমার সাহা, মিল্টন সরকার ও মোহাম্মদ সোহেল নামে ভিন্ন ভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করত। সিলেট, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বাইক চুরি করে অন্য চোরাকারবারীদের কাছে বিক্রি করা ছিল তার মূল পেশা।

গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম জেলাতেই ২১টি এবং মৌলভীবাজারে ৫টিসহ দেশের বিভিন্ন থানায় মোট ২৮টি চুরি মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এর আগেও চলতি বছরের ২ জানুয়ারি দুটি চোরাই মোটরসাইকেল ও চুরি করার যন্ত্রাংশসহ শ্রীমঙ্গল এলাকা থেকেই তাকে একবার গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।

​বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুদীপ্ত শেখর ভট্টাচার্য্য বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। চোরচক্রের অন্যান্য সদস্যদের ধরতেও পুলিশের এ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।