বাংলাদেশ নারী টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নিগার সুলতানা জ্যোতি। আসন্ন এশিয়ান গেমসের পর এই সংস্করণে নেতৃত্ব দিতে চান না তিনি। এ বিষয়ে জাপান থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নারী বিভাগের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবুর কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন জ্যোতি। তবে এমন সিদ্ধান্তে খুশি নন বলেও জানান বাবু।
টি-টোয়েন্টির নেতৃত্ব ছাড়লেও ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্ব চালিয়ে যাবেন জ্যোতি। এশিয়ান গেমস খেলতে বর্তমানে জাপানে আছেন তিনি। সেখান থেকে পাঠানো চিঠিতে ব্যাটিংয়ে পূর্ণ মনোযোগ দিতেই সংক্ষিপ্ত সংস্করণের নেতৃত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। এ নিয়ে বাবু বলেন, ‘জ্যোতি আমাকে একটা চিঠি পাঠিয়েছে। সে আর টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক থাকতে চায় না। ব্যাটিং ভালো হচ্ছে না বলে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও ওয়ানডের দায়িত্ব পালন করবে। তবে তার এমন সিদ্ধান্তে আমরা খুশি নই। আগে আমাদের সঙ্গে আলোচনা করতে পারত।’
২০২২ সাল থেকে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন জ্যোতি। তার নেতৃত্বে ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ে বাংলাদেশ। এক দশক পর বিশ্বকাপের মঞ্চে জয় পায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। সেই ম্যাচসহ ওই আসরে ব্যাট ও গ্লাভস হাতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল জ্যোতির। চার ইনিংসে ১০৪ রান করার পাশাপাশি উইকেটের পেছনে সাতটি উইকেটে অবদান রাখেন।
এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের হয়ে ১৩২টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন জ্যোতি, যার ৮০টিতেই নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার অধিনায়কত্বে বাংলাদেশ জিতেছে ৩২টি ম্যাচ, হেরেছে ৪৭টি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স খুব একটা সন্তোষজনক নয়। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হলেও ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার কাছে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হারে বাংলাদেশ। এরপর স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসকে নিয়ে আয়োজিত ত্রিদেশীয় সিরিজেও প্রত্যাশিত ধারাবাহিকতা দেখা যায়নি। সর্বশেষ বিশ্বকাপেও পাঁচ ম্যাচে দুটি জয় পেয়েছে দলটি।
ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও সাম্প্রতিক সময়ে ছন্দে নেই জ্যোতি। সর্বশেষ এশিয়া কাপের সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নেয় বাংলাদেশ। পুরো টুর্নামেন্টে রানখরায় ভোগেন অধিনায়ক নিজেও। চার ম্যাচে তার ব্যাট থেকে আসে মাত্র ৫৬ রান। দুবাইয়ে এশিয়া কাপের পর্ব শেষ করে বর্তমানে দলের সঙ্গে জাপানের আইচি নাগোয়ায় অবস্থান করছেন জ্যোতি। সামনে এশিয়ান গেমস। সেখানেই টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্বে তার শেষ দায়িত্ব পালন করার কথা। টি-টোয়েন্টির নেতৃত্ব ছাড়লেও ওয়ানডেতে দলের দায়িত্ব নিজের কাছেই রাখছেন জ্যোতি।