লাখ লাখ কোটি টাকার বৈদেশিক ঋণের বোঝা নিয়ে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নিয়েছে উল্লেখ করে জনগণকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। তিনি বলেন, এই ঋণের দায় শুধু বর্তমান প্রজন্ম নয়, ভবিষ্যতে জন্ম নেওয়া শিশুকেও বহন করতে হবে। তাই সরকারকে সহযোগিতা করে একটি সুন্দর ও ‘ক্লিন বাংলাদেশ’ গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সরকারের গত এক মাসের কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন আতিকুর রহমান রুমন। সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন প্রধান উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি।
রুমন বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই সবকিছুর সমালোচনা না করে বিগত সরকার দেশের ওপর কী পরিমাণ বৈদেশিক ঋণের বোঝা রেখে গেছে, তা একবার বিবেচনা করা উচিত। এই ঋণের দায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও বহন করতে হবে। তার ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করলেও সবকিছু ঠিক করতে সরকারের আরও কিছুটা সময় প্রয়োজন।
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় মানুষ গ্যাস পাচ্ছিল না এবং এর প্রভাব হিসেবে বিদ্যুৎ সংকটও দেখা দিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি সমাধানে উদ্যোগ নিয়েছেন এবং ব্যবস্থা নেওয়ার পরই ঘোষণা দিয়েছেন। গ্যাসের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘোষণা দেওয়ার সুযোগ থাকলেও তিনি তা না করে পরদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় দিয়েছিলেন বলে জানান রুমন।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শুধু ঘোষণা দিয়েই থেমে থাকেননি। গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য একটি মনিটরিং সেল করা হয়েছে। কোন এলাকায় কতটুকু গ্যাসের চাপ যাচ্ছে এবং মানুষ কী পরিমাণ গ্যাস পাচ্ছে, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
রুমনের দাবি, প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট রয়েছেন। এ কারণে জনগণের উচিত সরকারকে সহযোগিতা করা। সবাই সহযোগিতা করলে একটি সুন্দর, সুসজ্জিত ও সফল বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগও করেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব। তিনি বলেন, সম্প্রতি একটি পুরোনো মন্দির সংস্কারের জন্য ভেঙে ফেলার ঘটনাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিকৃতভাবে প্রচার করা হয়েছে। পরে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘদিনের পুরোনো মন্দিরটি যেকোনো সময় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলেই সংস্কারের জন্য সেটি ভাঙা হচ্ছিল। অথচ কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকর্মী বিষয়টি এমনভাবে উপস্থাপন করেছেন, যেন সরকার মন্দিরটি ভেঙে ফেলছে।
রুমন বলেন, বাংলাদেশেও কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ‘জোড়াতালি’ দিয়ে তথ্য তৈরি করে সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এ ক্ষেত্রে তিনি সবাইকে দোষারোপ করছেন না। নিজের সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, ১৯৯৩ সাল থেকে তিনি এ পেশার সঙ্গে যুক্ত।
প্রধানমন্ত্রী সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন উল্লেখ করে রুমন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দুই দিন আগ পর্যন্ত একটি জাতীয় দৈনিকের মালিক ও প্রকাশক ছিলেন। বিগত সরকার তার দেশত্যাগের ছয় মাস আগে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে পত্রিকাটি বন্ধ করে দিয়েছিল। এর ফলে বহু সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী বেকার হয়ে পড়েছিলেন বলে জানান তিনি।
তারেক রহমানের গবেষণামূলক কাজের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন রুমন। তিনি বলেন, প্রায় ১৭ থেকে ১৮ বছর আগে বনানীর একটি কার্যালয়ে তারেক রহমান গবেষণামূলক কাজ করতেন। সেখানে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার কৃষি, ফসল, মাছ চাষ ও পরিত্যক্ত পুকুরসহ নানা বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হতো। ওই সময়ের ফাইলগুলো এখনো প্রধানমন্ত্রীর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সবশেষে সবাইকে দেশের উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে রুমন বলেন, বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে এবং ‘ক্লিন বাংলাদেশ’ গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে যে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করতে হবে।