একজনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

সাতকানিয়ায় পিচ্চি জাহিদ হত্যায় ১২ আসামি গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় জাহেদুল আলম (৩৩) ওরফে পিচ্চি জাহিদ নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ১২জনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতারা সবাই জাহিদ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে জেলা পুলিশ। 

সুত্রটি জানায়, গত ৩০ আগস্ট রাত আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার পুরানগড় ইউনিয়নের ভাঙ্গারগোড়া এলাকায় পিচ্চি জাহিদকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। সরকারি গাছ কাটার ঘটনা নিয়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশকে কেন্দ্র করে জাহেদুলদের সঙ্গে আসামিদের বিরোধের সৃষ্টি হয়।

ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ৮টার দিকে পুরানগড় নতুন হাট এলাকায় আসামিরা জাহেদুলকে মারধর করে এবং ওই ভিডিও প্রকাশের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরবর্তীতে রাত ১০টার দিকে জাহেদুল তার সঙ্গে থাকা মো. ওয়াহিদকে নিয়ে মোটর সাইকেলযোগে বাজালিয়া স্টেশনের উদ্দেশ্যে রওনা হলে ভাঙ্গারগোড়া এলাকায় তাদের পথরোধ করে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি। এসময় দা, কিরিচ, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা দিয়ে জাহেদুলের ওপর হামলা চালায় তারা। গুরুতর আহত হন জাহেদ ও মো. ওয়াহিদ। পরে মারা যান জাহেদুল। 

এ ঘটনায় নিহতের মা মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে গত ২ সেপ্টেম্বর সাতকানিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৫/৬ জনকে আসামি করা হয়।

জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের নির্দেশনায় আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে বিশেষ অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেয় পুলিশ। 

জেলা গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা আসামিদের ওপর নজরদারি শুরু করেন। অভিযানের একপর্যায়ে নগরের পাহাড়তলী থানা এলাকা থেকে মো. আজাদ ও মো. হেলালকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক ১ টার দিকে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে জাহেদ হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ১০ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।  এ নিয়ে জাহেদ  হত্যা মামলায় মোট ১২জন এজাহারনামীয় আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলো। 

গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন, জসিম উদ্দিন (৫০), জয়নাল আবেদীন মানিক (২৬), মো. রিদুয়ান (২৬), মো. টিপু (৩৫), আবু মাজহারুল ইসলাম ইফাজ (২০), আব্দুল্লাহ আল তুষার (৩০), খোরশেদ আলম ওরফে ফারুক (৫২), মো. রবিউল হোসেন (২১), আবুল কাশেম (৩৮), হাবিবুর ইসলাম ওরফে হাবিব (২৮), মো. হেলাল এবং মো. আজাদ।

গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে মো. আজাদকে  আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।