ঢাকা–নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট চালুতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা

আগামী বছর ঢাকা–নিউইয়র্ক রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুর লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। এ উদ্যোগে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে তাঁর নিজ দপ্তরে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। আকাশপথে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে এভিয়েশন মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নের কাজ চলছে। বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সম্প্রতি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অত্যাধুনিক এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম উদ্বোধন করা হয়েছে। পাশাপাশি বগুড়ায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে বিশ্বখ্যাত লিগ্যাসি এয়ারলাইন্স হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বহরে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ ক্রয়ের চুক্তি ইতোমধ্যে করা হয়েছে। তাঁর মতে, এটি দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। তবে বোয়িংয়ের তৈরি উড়োজাহাজগুলোর ডেলিভারি দ্রুত করা জরুরি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে এফএএ ইন্টারন্যাশনাল এভিয়েশন সেফটি এসেসমেন্ট বা আইএএসএ ক্যাটাগরি-১ স্ট্যাটাস গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান মন্ত্রী। দুই দেশের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিকের যাতায়াতের সুবিধা বিবেচনায় আগামী বছর ঢাকা–নিউইয়র্ক রুটে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

পর্যটন খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার। তাঁর দাবি, বিগত সরকার পর্যটন খাতের উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য কোনো উদ্যোগ নেয়নি। দেশের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন স্পটকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করছে।

রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, বাংলাদেশের এভিয়েশন হাব হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার পথে যুক্তরাষ্ট্র পাশে রয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অটুট থাকবে। পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় এ সময় তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন খাতের উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীরা আগ্রহী। ঢাকা–নিউইয়র্ক রুটে ফ্লাইট চালুর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের সহযোগিতা করবে। পাশাপাশি বাংলাদেশের পর্যটন খাতের প্রচারে রাষ্ট্রদূতের বিভিন্ন পর্যটন স্পট সফরের বিষয়েও সাক্ষাৎকালে আলোচনা হয়।