বাদ পড়াকে 'ষড়যন্ত্র' না ভেবে নতুন চ্যালেঞ্জ নিচ্ছেন আকবর আলী

বাংলাদেশ ক্রিকেটে একই সময়ে একাধিক দলের ব্যস্ত সূচি ছিল। জাতীয় দল, বাংলাদেশ ‘এ’ দল, হাই পারফরম্যান্স ইউনিট বিভিন্ন জায়গায় খেলেছে। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় দলের নির্বাচকদের প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন ক্রিকেটারকে বিভিন্ন পর্যায়ে দেখার ও ব্যবহারের সুযোগ হয়েছে। কিন্তু এত ক্রিকেটারের ভিড়েও কোথাও জায়গা হয়নি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক আকবর আলীর।

একজন ক্রিকেটার হিসেবে বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই হতাশ করেছে আকবরকে। তবে জাতীয় দলে কিংবা অন্য কোনো দলে সুযোগ না পাওয়ার পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র খুঁজতে রাজি নন তিনি। বরং নিজের ঘাটতিগুলো খুঁজে বের করে আরও ভালো করার চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছেন। আজ মিরপুরে নিজের দল থেকে বাদ পড়া এবং সুযোগ না পাওয়া প্রসঙ্গে আকবর বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে অবশ্যই আমার খারাপ লাগছে এবং আমার মনে হয় এটা খারাপ লাগা উচিত।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এরই মধ্যে নানা ধরনের আলোচনা হয়েছে। কেউ কেউ নির্বাচকদের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, কেউ আবার এর পেছনে ষড়যন্ত্রের তত্ত্বও দাঁড় করিয়েছেন। তবে আকবর নিজে এসব আলোচনায় যেতে চান না, 'আমি প্রথমত কোনো ষড়যন্ত্র তত্ত্বের দিকে যেতেই চাই না। এটা একদম সৎ উত্তর। চার-পাঁচটি দল গেছে, সেখানে আমি ছিলাম না। একজন খেলোয়াড় হিসেবে অবশ্যই আমার খারাপ লেগেছে। আমার মনে হয়, খারাপ লাগাটাই স্বাভাবিক।’

নিজের অবস্থান নিয়েও তার উপলব্ধি পরিষ্কার। আকবর মনে করেন, তিনি অন্তত কোনো একটি দলে সুযোগ পাওয়ার মতো অবস্থানে ছিলেন। সেটি না হওয়ায় হতাশা থাকলেও নির্বাচকদের সিদ্ধান্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চান না তিনি। আকবরের সঙ্গে নির্বাচকদের যোগাযোগও হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে নিজের কোন কোন জায়গায় আরও উন্নতি করতে হবে, সে বিষয়ে নির্বাচকেরা কথা বলেছেন। সেই আলোচনাকে নেতিবাচক হিসেবে দেখছেন না তিনি। বরং নিজের উন্নতির জায়গাগুলো সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়াকে ইতিবাচক হিসেবেই আকবর, ‘নির্বাচকদের সঙ্গে আমার কমিউনিকেশন হয়েছিল যে তারা আমার মধ্যে আরও কী উন্নতি চায়।’

বাদ পড়ার হতাশা থাকলেও সেটিকে নিজের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন আকবর, ‘আমি মনে করি, আমি থাকতে পারতাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এটা নির্বাচকদের সিদ্ধান্ত। এখানে আসলে আমার করার কিছু নেই। আমার হাতে যেটা আছে, তা হলো সামনে যে ম্যাচগুলো আছে সেখানে ভালো করা এবং নিজের নামটা আবার নির্বাচকদের আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসা।’