‘স্বাধীনতা সংগ্রাম’ ভাস্কর্যের মুখে কালো কাপড়

দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়া ও অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ‘স্বাধীনতা সংগ্রাম’ ভাস্কর্যের মুখে কালো কাপড় বেঁধেছে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। গত মঙ্গলবার সংগঠনটির ঢাবি শাখার আহ্বায়ক আরমানুল হকের নেতৃত্বে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় ভাস্কর্যগুলোর দ্রুত সংস্কার, পুনর্র্নিমাণ ও যথাযথ সংরক্ষণের দাবি জানান নেতাকর্মীরা।

ছাত্র ফেডারেশন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক অর্ক বড়ুয়া বলেন, ‘স্বাধীনতা সংগ্রাম’ চত্বরে শামীম শিকদারের তৈরি ভাস্কর্যগুলো দেশের মানুষের নিজস্ব লড়াই, ঐতিহ্য ও ইতিহাসকে প্রতিনিধিত্ব করে। চব্বিশের ৫ আগস্টের পর এসব ভাস্কর্যের ওপর হামলা হলেও কারা, কখন ও কী কারণে হামলা করেছে, সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আজও কোনো তদন্ত করতে দেখা যায়নি।

তিনি বলেন, দুই বছর পেরিয়ে গেলেও প্রশাসন এই ভাস্কর্যগুলো সংস্কারে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। চত্বরে প্রবেশের গেটটিও তালাবদ্ধ। অনেক ভাস্কর্যের চোখ-মুখের অবয়ব ভেঙে ফেলা হয়েছে। আর যেসব ভাস্কর্যের অবয়ব এখনো রয়েছে, প্রতিবাদের অংশ হিসেবে সেগুলোর মুখে কালো কাপড় বাঁধা হয়েছে।

বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক আরমানুল হক বলেন, চব্বিশের ৫ আগস্টের পর স্বাধীনতার স্তম্ভ ও গুণী ব্যক্তিদের ভাস্কর্যের মস্তক কর্তন করা হয়েছে। অন্তর্র্বর্তী সরকারের সময়েও এগুলো সংস্কার করা হয়নি, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও সংস্কারের উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। প্রশাসন, সিটি করপোরেশন বা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দ্রুত এসব ভাস্কর্য সংস্কার ও জায়গাগুলো সংরক্ষণের দাবি জানান তিনি।

তিনি বলেন, ভাঙা ভাস্কর্যগুলো পুনর্র্নিমাণ ও পুনঃস্থাপন করে যথাযথ মর্যাদা দিতে হবে। বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানসহ সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ভাস্কর্যও এমনভাবে বিকৃত করা হয়েছে যে তাদের চেনা যায় না। একাত্তর ও বিভিন্ন গণআন্দোলনের শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং তাদের মনুমেন্ট পুনর্র্নিমাণের দাবি জানান তিনি।

ডাকসু সংগ্রহশালায় ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ : পরে ‘স্বাধীনতা সংগ্রাম’ ভাস্কর্যের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে ডাকসু সংগ্রহশালায় অননুমোদিত পরিবর্তন ও ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ তোলে ছাত্র ফেডারেশন। সংগঠনটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়। একই সঙ্গে সংগ্রহশালা থেকে সরানো সব কিছুর পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ এবং অপসারিত ঐতিহাসিক চিত্র ও স্মারক পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ছাত্র ফেডারেশন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সাদিক আহমেদ মাসুম। লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, ডাকসু নেতৃবৃন্দ সংগ্রহশালায় এ দেশের মানুষের সংগ্রামের ইতিহাস বিকৃত করেছেন। সেখানে ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর দেওয়া ভাষণকে ‘ঐতিহাসিক বক্তব্য’ হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও, ওই বক্তব্যের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ‘মানি না, মানি না’ স্লোগান দেয়। ওই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে জিন্নাহ এই অঞ্চলের মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। তাই তার ছবিকে যারা ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, তাদের অভিপ্রায় নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তিনি বলেন, ডাকসু সংগ্রহশালার দায়িত্বে থাকা ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক এবং ডাকসুর সভাপতি হিসেবে উপাচার্য এ ঘটনার দায় এড়াতে পারেন না।