ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুনের ঘটনায় নতুন তদন্ত কমিটি

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকা-ের ঘটনায় আগের তদন্ত কমিটি বাতিল করে নতুন ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। নতুন কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

গতকাল বুধবার এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক গোলাম রহমান ভূঁইয়াকে কমিটির প্রধান এবং সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খানকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। কমিটিতে আরও দুজন চিকিৎসক, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের একজন নির্বাহী প্রকৌশলী এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একজন সহকারী পরিচালককে সদস্য করা হয়েছে।

নতুন কমিটির কার্যপরিধিতে অগ্নিকা-ের কারণ নির্ণয়, ঘটনায় কারও গাফিলতি থাকলে তা চিহ্নিত করা, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে সুপারিশ এবং ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের বিষয় রাখা হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার হাসপাতালের উপপরিচালক জাকিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত আদেশে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটিতে লিফট ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত অধিদপ্তরের দুই প্রকৌশলী অর্ণব বিশ্বাস ও মো. মাজেদুর রহমানকে সদস্য করা হয়। এ নিয়ে সমালোচনা হলে কমিটিটি বাতিল করে নতুন কমিটি গঠন করা হয়।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, হাসপাতালের লিফট ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে গণপূর্ত অধিদপ্তর রয়েছে। তাই তাদের বাদ দিয়ে নতুন কমিটি করা হয়েছে। নতুন কমিটির কার্যক্রম বুধবার থেকেই শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসাইন বলেন, অগ্নিকান্ডের পর মৃত্যুর ঘটনা কীভাবে ঘটেছে, তা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে স্পষ্ট হবে। অগ্নিকান্ডের পর বুধবার হাসপাতালে পরিদর্শনে আসেন প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসাইন। হাসপাতালের প্রশাসন ও চিকিৎসকদের সঙ্গে তিনি প্রায় ৭০ মিনিট রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। এদিকে অগ্নিকান্ডের পর মৃত্যুর সংখ্যা ও কারণ নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। গতকাল হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে ময়মনসিংহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সহসভাপতি আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ সাংবাদিকদের বলেন, গণমাধ্যমে ছয়জনের মৃত্যুর যে তথ্য এসেছে, তা সঠিক নয়।

তার দাবি, দুজনের মৃত্যু হয়েছে আগুনের আতঙ্কে এবং আরও দুজনের মৃত্যু স্বাভাবিক কারণে। পদদলিত বা অগ্নিদগ্ধ হয়ে কেউ মারা যাননি বলেও তিনি দাবি করেন। মৃতের তালিকায় জাহানারা বেগমের নাম থাকলেও তিনি জীবিত এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জানান তিনি।