আসল ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তারের দাবি ডিবির

জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইকারীর হ্যাঁচকা টানে রিকশা থেকে পড়ে শিক্ষিকা রনজিলা পারভীনের মৃত্যুর ঘটনায় মূল হোতাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ডিবির দাবি, গ্রেপ্তার খোকন ও রাজীব মাতব্বরই ওই ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত। অন্যদিকে একই ঘটনায় গত ৩০ আগস্ট র‌্যাব-২ যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছিল, তদন্তে তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ডিবি। র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার রাকিব, পনি ও সেড্রিককে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গতকাল বুধবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে ছিনতাইকারীদের শনাক্তের চেষ্টা শুরু হয়। গত মঙ্গলবার ভোলার সদর উপজেলার গজারিয়া এলাকার বাসিন্দা খোকনকে মিরপুরের মনিপুর পশ্চিমপাড়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সময় মোটরসাইকেলের পেছনে বসে রনজিলার ব্যাগে হ্যাঁচকা টান দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। পরে মিরপুর থানার বড়বাগ এলাকা থেকে রনজিলার ছিনতাই হওয়া ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। ওই ব্যাগে তার ব্যবহৃত পোশাক, টিকিটের অংশ, মোবাইল, চশমার খাপ ও কিছু ওষুধ ছিল। এরপর ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে রাজীব মাতব্বরকে সাভারের বিরুলিয়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার সময় রাজীবই মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিলেন। রাজীবের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি দিয়াবাড়ি এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। তার কাছ থেকে ৬২২ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাজীব জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, দস্যুতা, চুরি, মারামারি ও দ্রুত বিচার আইনের মামলাসহ আটটি মামলা রয়েছে। আর খোকনের বিরুদ্ধে মাদকের তিনটি মামলা রয়েছে। শফিকুল ইসলাম বলেন, র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং পরবর্তী তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে রনজিলার মৃত্যুর ঘটনায় তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। নতুন করে গ্রেপ্তার হওয়া দুজন পশ্চিম মনিপুর এলাকায় থাকেন। আর র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা তেজতুরীপাড়া এলাকার। এরা দুটি ভিন্ন গ্রুপ। আগে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের এই মামলায় সংশ্লিষ্টতা না পেলে মামলা থেকে বাদ দেওয়া হবে, তবে তাদের বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা থাকলে সেসব মামলায় আইনি প্রক্রিয়া চলবে।

ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি রাজীবের নিজের। খোকনের পরনের শার্ট, হাতে থাকা ঘড়ি ও মাথার ক্যাপও উদ্ধার করা হয়েছে। র‌্যাব তখন ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল উদ্ধারের কথা জানিয়েছিল। তবে সিসিটিভি ফুটেজের সঙ্গে সেটি মেলেনি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাজীব জানিয়েছেন, মোটরসাইকেলটি তার নিজের এবং ছিনতাইয়ের টাকায় তিনি সেটি কিনেছেন।

ডিবির বক্তব্য অনুযায়ী, রনজিলার স্বামী ঘটনার সময় ছিনতাইকারীকে এক ঝলক দেখেছিলেন। স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তার মনে থাকা সেই চেহারার বর্ণনা তদন্তকারীদের জানান। পরে পেছনে থাকা খোকনকে শনাক্ত করা হয়। শফিকুল ইসলাম বলেন, রনজিলার ব্যাগ, মোবাইল ফোন, পরনের পোশাক, ওষুধ ও টিকিটের অংশসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। এসব আলামত ও ভিডিও ফুটেজের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে বিষয়টি বোঝা যাবে।