কানাডার জন্য দরজা উন্মুক্ত করল ইইউ

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেছেন, কানাডার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ‘দরজা খুলে দিতে’ চান তিনি। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ইউরোপীয় পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে তিনি কানাডার সঙ্গে উৎপাদন, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার মতো খাতে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার কথা বলেন।

ভন ডার লেয়েন বলেন, এই অংশীদারত্ব কারও বিরুদ্ধে নয়; বরং আন্তর্জাতিক নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থায় যে পরিবর্তন ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষাপটে ইউরোপের নেওয়া সিদ্ধান্ত এটি। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও গত সপ্তাহে ইইউর সঙ্গে একটি ‘অনন্য জোট’ গড়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি ভন ডার লেয়েনের ভাষণের সময় স্ট্রাসবর্গে উপস্থিত ছিলেন এবং বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। 

তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইইউ-কানাডা ঘনিষ্ঠতার প্রস্তাবকে ‘হাস্যকর’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এটি বৈরী পদক্ষেপ মনে হলে ইউরোপের ওপর ‘খুব গুরুতর’ শুল্ক আরোপ করা কিংবা বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নিতে পারেন।

কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গত মাসে বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ করার বিষয়ে ট্রাম্পের বারবার মন্তব্যও বিরোধ বাড়িয়েছে। একই সময়ে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান এবং ন্যাটো নিয়ে তাঁর প্রশ্ন ইউরোপীয় দেশগুলোর উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

বুধবার ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন কানাডাকে ইইউর সহযোগী সদস্য করার প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের অংশীদারত্বগুলোকে জরুরিভাবে নতুন করে ভাবতে হবে।’

ইইউর ‘সহযোগী সদস্য বা অ্যাসোসিয়েট মেম্বার’ বলতে কী বোঝায়, তা নিয়েও এখন আলোচনা শুরু হয়েছে। পূর্ণ সদস্য না হয়েও কোনো দেশ ইইউর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতার কাঠামোয় যুক্ত হতে পারে—সাধারণত এমন সম্পর্ককেই অ্যাসোসিয়েট সদস্যপদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ভন ডার লেয়েন একই ভাষণে একটি ইউরোপীয় নিরাপত্তা পরিষদ গঠনের প্রস্তাবও দেন। এতে যুক্তরাজ্য, ইউক্রেন, কানাডা ও নরওয়ের মতো অংশীদার দেশকে যুক্ত করার কথা ভাবা হচ্ছে। কোনো সদস্য দেশ হুমকির মুখে পড়লে জরুরি বৈঠক ডাকার ব্যবস্থা থাকবে, যা ন্যাটোর আর্টিকেল ৪-এর পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে পারে। তবে কয়েকটি দেশ আশঙ্কা করছে, নতুন এই কাঠামো ন্যাটোর সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি করতে পারে।

এ ছাড়া এআই শিল্পের সঙ্গে আলোচনা, ব্যবসার ওপর আমলাতান্ত্রিক চাপ কমানো এবং শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বয়সভিত্তিক বিধিনিষেধের প্রস্তাবও দিয়েছেন ভন ডার লেয়েন। অভিবাসীদের ব্যাপক প্রবেশের মতো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় নতুন একটি ব্যবস্থা চালুর কথাও তিনি বলেছেন। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো আশঙ্কা করছে, এর ফলে নারী ও শিশুসহ ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসীরা আন্তর্জাতিক আইনে প্রাপ্য সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

উরোপীয় পার্লামেন্টে দেওয়া এক ভাষণে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, ‘ইউরোপ ও কানাডা একসঙ্গে আরও শক্তিশালী।’ একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ‘অ্যাসোসিয়েট সদস্য’ হিসেবে কানাডাকে অন্তর্ভুক্ত করার যে উচ্চাকাঙ্ক্ষা, সেটিকেও স্বাগত জানিয়েছেন তিনি।