গাজায় বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি ভবন ধসে ২১ জন নিহত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৪৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এক ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা। বুধবারের (১৬ সেপ্টেম্বর) এ দুর্ঘটনার পরে বৃহস্পতিবার উদ্ধার অভিযান শেষ করেছে ফিলিস্তিনি উদ্ধারকারী দল।
গাজায় বড় ধরনের যুদ্ধের অবসান ঘটানো যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার প্রায় এক বছর হতে চললেও বিধ্বস্ত উপত্যকাটিতে পুনর্গঠনকাজ এখনো শুরু হয়নি। ইসরায়েলি বিমান হামলায় অধিকাংশ ভবন পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। অনেক ভবন ইসরায়েলি বাহিনী বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। অবশিষ্ট ভবনগুলোর প্রায় সবই কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।
দুই কোটির বেশি মানুষ বসবাস করা গাজার জনসংখ্যার প্রায় সবাই এখন উপত্যকার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ এলাকায় সীমাবদ্ধ। তাদের বেশির ভাগই অস্থায়ী তাঁবু কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের অতিরিক্ত ভিড়ের কক্ষে আশ্রয় নিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার ধসে পড়া ভবনটির ধ্বংসস্তূপ সরাতে বুলডোজার দিয়ে কাজ করা হয়। সেখানে তাঁবু স্থাপনের জন্য জায়গা প্রস্তুত করা হচ্ছিল। ভবনটিতে ১১০ জনের বেশি মানুষ বসবাস করতেন। ধ্বংসস্তূপ থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের সেখানে তাঁবুতে আশ্রয় দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এ সময় বাসিন্দাদের কেউ কেউ ধ্বংসস্তূপে নিজেদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, এমনকি খাবারও খুঁজছিলেন।
ফিলিস্তিনি ও জাতিসংঘের কর্মকর্তারা বলছেন, গাজায় ভারী যন্ত্রপাতি প্রবেশে ইসরায়েলের বিধিনিষেধের কারণে ধ্বংসস্তূপ সরানো এবং ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে ইসরায়েলের দাবি, সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে যাতে এসব সরঞ্জাম না যায়, তা নিশ্চিত করতেই এই বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের দাবি, ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে হামাস নেতৃত্বাধীন যোদ্ধাদের হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ নিহত হওয়ার পর গাজায় ইসরায়েলের অভিযান শুরু হয়। এরপর থেকে ইসরায়েলি হামলায় ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত বছর যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল, তাতে গাজার পুনর্গঠনের কথা বলা হয়। তবে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের শর্ত নিয়ে আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় পুনর্গঠন কার্যক্রম কার্যত এগোয়নি।