পিরিয়ডকালীন সচেতনতা ও সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে ফ্রেশ অনন্যা ও বুয়েটের যৌথ উদ্যোগ

মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের (এমজিআই) ফেমিনিন হাইজিন ব্র্যান্ড ফ্রেশ অনন্যা এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেটেরিয়ালস অ্যান্ড মেটালার্জিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (এমএমই) বিভাগের যৌথ উদ্যোগে মেনস্ট্রুয়াল হাইজিন ও স্বাস্থ্য সচেতনতা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বুয়েটের পুরাতন অ্যাকাডেমিক ভবনে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।

২০১৮ সালের জাতীয় স্বাস্থ্যবিধি জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশে পিরিয়ডরত নারীদের মধ্যে মাত্র ২৯ শতাংশ স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করেন। এই ব্যবধান কমাতে ফ্রেশ অনন্যা দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভেন্ডিং মেশিন স্থাপন করছে।

এই উদ্যোগের আওতায় এমএমই বিভাগে একটি ফ্রেশ অনন্যা স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন উদ্বোধন করা হয়। এর মাধ্যমে নারী শিক্ষার্থী ও কর্মীরা প্রয়োজনের সময় সহজে ও সম্মানজনকভাবে স্যানিটারি ন্যাপকিন সংগ্রহের সুযোগ পাবেন। মোবাইল পেমেন্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বাজারদরের চেয়ে কম মূল্যে এই মেশিন থেকে ফ্রেশ অনন্যা ন্যাপকিন কিনতে পারবেন।

ভেন্ডিং মেশিনটি উদ্বোধন করেন মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ডিরেক্টর ব্যারিস্টার তাসনিম মোস্তফা, বুয়েটের কেমিক্যাল অ্যান্ড মেটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন প্রফেসর মো. আমিনুল ইসলাম, ঢাকা মেডিকেল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল প্রফেসর মুসাররাত সুলতানা সুমি, এমএমই বিভাগের প্রধান প্রফেসর মো. মুক্তাদির বিল্লাহ এবং এমজিআইয়ের চিফ মার্কেটিং অফিসার কাজী মো. মহিউদ্দিন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ব্যারিস্টার তাসনিম মোস্তফা বলেন, “পিরিয়ড স্বাস্থ্যবিধি শুধু ব্যক্তিগত অস্বস্তির বিষয় নয়। এটি স্বাস্থ্য, মর্যাদা, আত্মবিশ্বাস এবং সমান সুযোগের সঙ্গে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।”

তিনি আরও বলেন, অস্বাস্থ্যকর কোনো বিকল্প মানসম্পন্ন স্যানিটারি ন্যাপকিনের বিকল্প হতে পারে না। পিরিয়ড একটি স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া হওয়ায় ভুল তথ্য বা সঠিক পণ্যের অভাবে তা কোনো নারীর শিক্ষা, কর্ম বা দৈনন্দিন জীবনে বাধা হয়ে দাঁড়ানো উচিত নয়।

“বুয়েটের এমএমই বিভাগের সঙ্গে মিলে এই ভেন্ডিং মেশিন স্থাপন করা সেই লক্ষ্যের দিকে একটি ছোট কিন্তু অর্থপূর্ণ পদক্ষেপ,” তিনি বলেন। তিনি জানান, ফ্রেশ অনন্যা দেশের আরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ক্যাম্পাসে এ ধরনের উদ্যোগ সম্প্রসারণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

প্রফেসর মুসাররাত সুলতানা সুমি বলেন, পিরিয়ড সম্পর্কে ভুল ধারণা ও সংকোচের কারণে অনেক নারী সঠিক তথ্য বা সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে দ্বিধা করেন। এর ফলে সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যাও জটিল হয়ে উঠতে পারে। তিনি স্বাস্থ্যসম্মত পিরিয়ড ব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োজনে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

অনুষ্ঠানে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং ফর হার: টুগেদার টুওয়ার্ডস আ বেটার সোসাইটি’ শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনাও অনুষ্ঠিত হয়। এতে একটি উন্মুক্ত সেশনে নারী শিক্ষার্থীরা চিকিৎসকদের কাছে মাসিক স্বাস্থ্য ও সংশ্লিষ্ট শারীরিক সমস্যা নিয়ে প্রশ্ন করার সুযোগ পান।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বুয়েটের স্টুডেন্টস’ ওয়েলফেয়ার ডিরেক্টোরেটের পরিচালক প্রফেসর একেএম মাসুদ, তাজকিয়াতুল ইসলাম মৌ, এমএমই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক প্রফেসর তাকিয়াক ফখরুল এবং এমএমই বিভাগের প্রভাষক নবিলা মাহজাবিন রিয়া প্রমুখ।