লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায়ের পর থেকেই কোচ লিওনেল স্কালোনির ভবিষ্যৎ নিয়েও আলবিসেলেস্তে শিবিরে তৈরি হয়েছে নানা গুঞ্জন ও ধোঁয়াশা। বিশ্বজয়ী এই কোচের উত্তরসূরি কে হবেন, তা নিয়ে যখন ফুটবল বিশ্বে জল্পনা-কল্পনা চলছে, ঠিক তখনই আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের ডাগআউটের দায়িত্ব নেওয়ার জোরালো আগ্রহ প্রকাশ করেছেন অভিজ্ঞ কোচ আন্তোনিও মোহামেদ।
মেক্সিকান ক্লাব তোলুকার বর্তমান এই আর্জেন্টাইন কোচ মনে করেন, আলভারেজ-এনজোদের এই বড় চ্যালেঞ্জ নেওয়ার মতো যথেষ্ট অভিজ্ঞতা এবং পরিপক্বতা এখন তার রয়েছে।
সম্প্রতি আর্জেন্টাইন রেডিও স্টেশন 'লা রেদ'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাসের কথা জানিয়ে মোহামেদ বলেন, ‘আমার বয়স এখন ৫৬। আমি ৪০ বছর ধরে ফুটবলের সাথে যুক্ত আছি এবং ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কোচিং করাচ্ছি। আমি প্রস্তুত।’
একই সাথে জাতীয় দলের প্রতি নিজের নিঃশর্ত ভালোবাসার কথা উল্লেখ করে তিনি যোগ করেন, দেশের জাতীয় দল সবকিছুর ঊর্ধ্বে এবং ব্যক্তিগতভাবে তিনি দলটির একজন নিবেদিতপ্রাণ সমর্থক।
খেলোয়াড়ী জীবন পেরিয়ে ২০০৩ সালে মেক্সিকান ক্লাব সাকাতেপেক দিয়ে কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন মোহামেদ। এরপর সুদীর্ঘ পথপরিক্রমায় মেক্সিকো, আর্জেন্টিনা, স্পেন ও ব্রাজিলের একাধিক ক্লাবে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন তিনি। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার ক্লাব ইন্দিপেন্দেন্তের হয়ে ২০১০ সালে মর্যাদাক্রম কোপা সুদামেরিকা জয় এবং হুরকানের হয়ে ২০০৭ সালে দলকে প্রথম ডিভিশনে উন্নীত করার মতো সাফল্য রয়েছে তার ঝুলিতে।
এছাড়া স্পেনের সেলতা ভিগো, ব্রাজিলের আতলেতিকো মিনেইরো এবং মেক্সিকোর আমেরিকা, মন্তেরেই, পুুমাস ও তোলুকার মতো দলগুলো সফলভাবে সামলেছেন। সুদীর্ঘ এই কোচিং ক্যারিয়ারে তিনি মোট ১৪টি ট্রফি জেতার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। যার মধ্যে রয়েছে মেক্সিকান চ্যাম্পিয়নশিপ, ব্রাজিলিয়ান সুপার কাপ, কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এবং লিগস কাপের শিরোপা। সঙ্গে তোলুকার ইতিহাসে সবচেয়ে সফল কোচ হিসেবেও রেকর্ড গড়েছেন তিনি।
কেবল কোচিং নয়, তার ফুটবলীয় পরিচয়ও বেশ সমৃদ্ধ। ক্যারিয়ারের শুরুতে একজন পেশাদার ফরোয়ার্ড হিসেবে মাঠ কাঁপিয়েছেন মোহামেদ। আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী ক্লাব হুরকান, বোকা জুনিয়র্স ও ইন্দিপেন্দেন্তেসহ ডজনখানেক ক্লাবে খেলেছেন প্রায় ৫০০ ম্যাচ। তবে তার জাতীয় দলের ক্যারিয়ারটা একেবারেই সংক্ষিপ্ত। জাতীয় দলের হয়ে কেবল ৪টি ম্যাচ খেলেছেন। অবশ্য এর মধ্যেই ১৯৯১ সালে কোপা আমেরিকা জয়ী আর্জেন্টিনা স্কোয়াডের অংশ হওয়ার গৌরবের ইতিহাসও রয়েছে তার ক্যারিয়ারে।