ইউপি নির্বাচন শেষ করতে হবে ৬ জুনের মধ্যে

নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন এইচএসসি পরীক্ষার আগে শেষ করার বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সবাই সম্মত হয়েছেন। ভোট নিয়ে আগের পরিকল্পনা থেকে সরে আসেনি নির্বাচন কমিশন। গতকাল বৃহস্পতিবার নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে এ কথা জানান তিনি।

বৈঠক শেষে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, সংশ্লিষ্টদের মতামত পাওয়ার পর সাচিবিক কাজের সমন্বয় ও কমিশন সভায় আলোচনা করে ভোটের সুনির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করা হবে। দুপুর আড়াইটা থেকে নির্বাচন ভবনের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় চার নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিব, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিভাগ, দপ্তর, বাহিনীর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ইসি বলেন, আজকের সভায় সবাই একমত হয়েছেন। স্থানীয় সরকারের ইউপি নির্বাচন পারতপক্ষে ৬ জুনের আগে বা এইচএসসি পরীক্ষার আগে শেষ করতে হবে। সাইড লাইনের দুয়েকটা কাজ সমন্বয় করে যত দ্রুত সম্ভব সুনির্দিষ্ট তারিখ জানিয়ে দেওয়া হবে।

এর আগে গত সোমবার প্রাথমিকভাবে ৭ ধাপে নির্বাচনের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে সম্ভাব্য ভোটের দিন জানিয়েছিল ইসি। এতে বলা হয়, সাড়ে চার হাজার ইউপির ভোট নভেম্বরে শুরু করে মে মাসে শেষ করতে চায় ইসি। প্রথম ধাপ ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর। চতুর্থ ধাপ আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপ আগামী বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপ ২২ এপ্রিল এবং সপ্তম ধাপ ২৭ মে করার প্রাথমিক পরিকল্পনা রয়েছে।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ‘আমরা বলেছিলাম এগুলো টেনটেটিভ টাইম, ১৭ সেপ্টেম্বরের মিটিংয়ের পর চূড়ান্ত করব। আমরা ওখান থেকে সরে আসিনি। আজকে যে তথ্য-উপাত্ত পেয়েছি এর পরেই চূড়ান্ত করব। সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ থেকে যেসব মতামত এসেছে তা পর্যালোচনা ও সমন্বয় করে কমিশন সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

পাবলিক পরীক্ষার ফাঁকে, শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের কাযক্রম ব্যাহত না করে ইউপি নির্বাচন করার উপযুক্ত সময় খুঁজে নেওয়া ইসির জন্য কঠিন হচ্ছে মন্তব্য করে সানাউল্লাহ বলেন, ‘পরীক্ষা যাতে ব্যাহত না হয় এবং শিক্ষকদের ভোটের কাজে সম্পৃক্ত করতে প্রশিক্ষণসহ এক সপ্তাহ সময় দিতে হবে। আমরা উপলব্ধি করেছি-বাজেট পরিকল্পনাসহ দুয়েকটা সাইড লাইন ওয়ার্ক করতে হবে; কো-অর্ডিনেশনের কাজ আছে। অতি শিগগির তা সম্পন্ন করতে হবে। এসব কাজ সম্পন্ন করে যত দ্রুত সম্ভব সুনির্দিষ্ট তারিখ জানিয়ে দেওয়া হবে। তা ছাড়া সামনে মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা, উপজেলা, পৌরসভা, সিটি ও ইউপি নির্বাচন করতে হবে ইসিকে। এর মধ্যে এখন ইউপি নির্বাচন শুরু হতে যাচ্ছে।’

ইসি বলেন, ‘ইউপি নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে আমাদের। ভোটের জন্য গ্যাপ কম পাওয়া গেছে। পুরো নভেম্বর-ডিসেম্বর জুড়ে পরীক্ষা। প্রাপ্ত উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখতে হবে আদৌ সম্ভব কি না। আমরা জানুয়ারিতে সময় পাচ্ছি কিছুটা। ফেব্রুয়ারির ৭-৮ তারিখ রোজা শুরু; রোজার পর এসএসসি শুরু। আবার জুনে এইচএসসি শুরু। মাঝখানে একটু সময় পাওয়া যাচ্ছে, স্পেসগুলো টাইট। এর মধ্যে কীভাবে সব অ্যাকোমেটড হবে। আরও সাইড লাইন ওয়ার্ক করতে হবে।’

নভেম্বরে ভোট শুরু হবে কি নাÑ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি কি একা এটা বলতে পারব? আরও দুয়েকটা সাইড লাইন ওয়ার্ক করব। উপাত্তগুলো নিয়ে বসব, তারপর নির্দিষ্ট করব।’ তিনি বলেন, ‘সভায় ইসির প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল, এটি নিয়ে মতামত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এটি নিয়ে কমিশনও বসবে। ইসি সচিবালয়ও সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বসবে, সমন্বয় করবে। তারপর চূড়ান্ত হবে। আমরা এখনো নির্বাচন কমিশন মিটিং করিনি; সবার মতামতের আলোকে কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে।’