ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরার বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় আসছে বড় ধরনের পরিবর্তন। দ্বীপটির বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণে ১৮৩ কোটি ৪ লাখ টাকা ব্যয়ে সংশোধিত প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। প্রকল্পের আওতায় ৩৩ কেভি সাবমেরিন কেবল, ল্যান্ডিং স্টেশন ও ১১ কেভি ইনডোর সুইচিং স্টেশনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।
গত বুধবার অনুষ্ঠিত একনেক সভায় ‘মনপুরা দ্বীপাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার আপগ্রেডেশন ও সম্প্রসারণ (প্রথম সংশোধিত)’ প্রকল্পটির সংশোধিত প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। জানা গেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো)। পরিকল্পনা কমিশন-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের মার্চে শুরু হওয়া প্রকল্পটির মূল ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৩০ কোটি ২২ লাখ টাকা। প্রথম সংশোধনে ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮৩ কোটি ৪ লাখ টাকা। এতে মূল অনুমোদিত ব্যয়ের তুলনায় ৫২ কোটি ৮২ লাখ টাকা বা প্রায় ৪০ দশমিক ৬ শতাংশ ব্যয় বেড়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের মেয়াদও বাড়িয়ে ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পটির আগের মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩০ জুন শেষ হয়েছিল। ১৬ সেপ্টেম্বর একনেকের অনুমোদনের মাধ্যমে মেয়াদ নতুন করে ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারের সদিচ্ছা আছে বলেই প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। এবার কাজ শুরু করেই মনপুরাবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই।
জানা গেছে, প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ ৩৩ কেভি সাবমেরিন কেবল স্থাপন। নদীবেষ্টিত ও মূল ভূখ- থেকে বিচ্ছিন্ন মনপুরায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থা আরও সক্ষম করতে নদীর তলদেশ দিয়ে এ কেবল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি কেবল সংযোগের জন্য ল্যান্ডিং স্টেশন এবং ১১ কেভি এআইএস ইনডোর সুইচিং স্টেশন নির্মাণ করা হবে।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট দরপত্রের তথ্য অনুযায়ী, এসব অবকাঠামোর নকশা প্রণয়ন, সরবরাহ, স্থাপন, পরীক্ষণ ও কমিশনিংয়ের কাজও প্রকল্পের আওতায় রয়েছে। ফলে শুধু বিদ্যুৎ লাইন সম্প্রসারণ নয়, মনপুরার বিতরণ ব্যবস্থার সামগ্রিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভোলার মূল ভূখ- থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় মনপুরায় বিদ্যুৎ অবকাঠামো গড়ে তোলা ও সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা দীর্ঘদিনের চ্যালেঞ্জ। দ্বীপের মানুষের দৈনন্দিন জীবন থেকে শুরু করে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসাবাণিজ্য, কৃষি, মৎস্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নির্ভর করে বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপর। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নতুন প্রকল্পের কাজ শুরু হলে মনপুরার বিদ্যুৎ ব্যবস্থার বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা অনেকটাই কমবে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একনেকে অনুমোদনের পর এখন প্রকল্পের বাস্তবায়নই বড় বিষয়। নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু ও শেষ করা, সাবমেরিন কেবলসহ নির্মাণকাজের মান নিশ্চিত করা এবং পরবর্তী সময়ে অবকাঠামোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করা গেলেই মনপুরার মানুষ প্রকল্পটির পূর্ণ সুফল পাবে।