ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (সিপিএল) প্রথম কোয়ালিফায়ারে গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্সকে পাত্তাই দিল না অ্যান্টিগুয়া অ্যান্ড বারবুডা ফ্যালকনস। লিগ টেবিলের শীর্ষ দল গায়ানাকে মাত্র ৭৬ রানে গুটিয়ে দিয়ে ৯ উইকেটের এক তরফা জয় তুলে নিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ফ্যালকনস।
ব্রিজটাউনের কেনসিংটন ওভালে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে বল হাতে ভেলকি দেখান পাকিস্তানের দুই স্পিনার শাদাব খান ও সুফিয়ান মুকীম। উভয়েই শিকার করেন ৪টি করে উইকেট।
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা মন্দ করেনি গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স। পাওয়ার প্লের পর দলের রান যখন ১ উইকেটে ৪০, সেখান থেকেই শুরু হয় চরম ব্যাটিং ধস। মাত্র ৩.১ ওভারের ব্যবধানে মাত্র ৯ রান যোগ করতেই তারা হারিয়ে বসে ৮ উইকেট!
সুফিয়ান মুকীমের লেগ স্পিন ও গোয়ার্দে গ্লেন ফিলিপস (১৬) এবং মোহাম্মদ হারিসকে ফেরানোর পর ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন শাদাব খান। নবম ওভারে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন শাদাব; একে একে সাজঘরে ফেরান শিমরন হেটমায়ার, মেহেদী হাসান মিরাজ এবং কোয়েন্টিন স্যাম্পসনকে। শেষ পর্যন্ত রোমারিও শেফার্ডের অপরাজিত ১৪ রানের সুবাদে ১৫ ওভারে সব কটি উইকেট হারিয়ে ৭৬ রান সংগ্রহ করে গায়ানা। ফ্যালকনসের পক্ষে সুফিয়ান মুকীম ১৩ রানে ৪টি এবং শাদাব খান ১৬ রানে নেন ৪ উইকেট।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে ঝড় তোলেন অ্যান্টিগুয়ার ওপেনার রাহকীম কর্নওয়াল। মাত্র ১৬ বলে ৩টি চার ও ৬টি ছক্কার সাহায্যে বিধ্বংসী ৪৯ রান করে জয়ের পথ সহজ করে দেন তিনি। পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার আগেই, মাত্র ৫.২ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৭৭ রান করে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ফ্যালকনস। এভিন লুইস ১৩ বলে ২৩* এবং আমির জাঙ্গু ৪ রান করে অপরাজিত থেকে দলের জয় নিশ্চিত করেন। ৮ বল করে ১০ রান দেয়া মিরাজ ছিলেন উইকেটশূন্য।
দুর্দান্ত বোলিংয়ের সুবাদে ম্যাচসেরার পুরস্কার উঠেছে শাদাব খানের হাতে।
এই হারের ফলে ফাইনালের রেস থেকে ছিটকে যায়নি গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স। ফাইনালের টিকিট পেতে আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে জ্যামাইকা কিংসম্যানের মুখোমুখি হবে তারা। অন্যদিকে, বিজয়ী ফ্যালকনস আগামী ২০ সেপ্টেম্বর ফাইনাল ম্যাচে মাঠে নামবে।