আট দফা দাবি নিয়ে কাল শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে লংমার্চ করবে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানীসহ সংশ্লিষ্ট জেলা ও মহানগর শাখায় চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি।
লংমার্চের বহরকে স্বাগত জানাতে ঢাকা থেকে রংপুর পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে নেতাকর্মী-সমর্থকদের অবস্থানের মাধ্যমে ‘মানবপ্রাচীর’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে জামা। এতে এক হাজারের বেশি গাড়ি যুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
১১ দলের নেতারা জানান, কর্মসূচিকে জনসম্পৃক্ত করতে রাজধানীসহ সংশ্লিষ্ট জেলা ও মহানগর এলাকায় লিফলেট বিতরণ, মিছিল ও গণসংযোগ করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় প্রস্তুতি সভার পাশাপাশি অনলাইনেও প্রচারণা চালানো হচ্ছে। কর্মসূচির পক্ষে প্রচারে গান ও নাটিকা তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
লংমার্চের প্রস্তুতি দেখতে শুক্রবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ পরিদর্শন করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।
কাল শনিবার সকাল ৭টায় এখানে উদ্বোধনী সমাবেশ শুরু হবে। এরপর সকাল ৮টায় রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করবে গাড়ি বহর। পথে গাজীপুরের ভোগরা বাইপাস, টাঙ্গাইলের নগর জালপাই, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল, বগুড়ার মাটিডালিস্থ বিমান মোড় ও গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পাঁচটি পথসভা হবে। রংপুর জিলা স্কুল মাঠে হবে সমাপনী সমাবেশ।
তবে শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে গোলাম পরওয়ার জানান, ঢাকা, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, গাইবান্ধা ও রংপুরের রুটে মোট সাতটি জনসভা ও পাঁচটি পথসভার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ আগের ঘোষিত পাঁচ পথসভার পাশাপাশি জনসভার পরিধিও বাড়ানো হয়েছে।
লংমার্চের দাবিও বেড়েছে। শুরুতে ছয় দফা দাবি নিয়ে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। পরে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধের দাবি যুক্ত হয়ে তা সাত দফায় উন্নীত হয়। সর্বশেষ উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়টি যুক্ত হওয়ায় দাবি দাঁড়িয়েছে আট দফায়।
আট দফার মধ্যে রয়েছে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন।
শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে গোলাম পরওয়ার কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে পালনের আহ্বান জানান। কোনো ধরনের উসকানিতে পা না দিতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি সরকার, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ট্রাফিক বিভাগ, গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।