উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়ল ব্রিজের সংযোগ সড়ক

চট্টগ্রামের চন্দনাইশে উদ্বোধনের আগেই একটি ব্রিজের দুই পাশের সংযোগ সড়ক অতিবৃষ্টিতে ধসে পড়েছে। এতে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করায় ভোগান্তিতে পড়েছেন ব্রিজটি ব্যবহারকারী কয়েক হাজার বাসিন্দা।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে ব্রিজ এলাকায় গিয়ে সংযোগ সড়ক ধসে পড়ার বিষয়টি দেখা যায়।

উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের ভগবান চৌধুরীহাট থেকে খোদার হাট জিসি বায়া আশরাফ মহুরি হাট বগেরটেক সড়কের প্রথম কিলোমিটারে নির্মিত হয়েছে ৩৫ মিটার দৈর্ঘ্যের পিএসসি গার্ডার ব্রিজটি। চলতি বর্ষায় অবিরাম বৃষ্টির কারণে ব্রিজটির দুই পাশের সংযোগ সড়ক ধসে পড়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ব্রিজটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিপা এন্টারপ্রাইজ। এতে ব্যয় হয়েছে ৬ কোটি ১৩ লাখ ৬৮ হাজার ৬৫ টাকা। ২০২৩ সালে ব্রিজটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় এবং ২০২৫ সালে নির্মাণকাজ শেষ হয়।

অতিবৃষ্টির কারণে ব্রিজটির সংযোগ সড়কের ব্রিক সলিং, ড্রেন এবং দুই পাশের প্রতিরক্ষা খুঁটি ধসে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ব্রিজটি তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ ভগবান চৌধুরীহাট থেকে খোদার হাটে যাতায়াত করেন। পাশাপাশি এলাকার অনেক শিক্ষার্থী ব্রিজটি পার হয়ে স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজে যাতায়াত করে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, সংযোগ সড়কের মাটি যেভাবে ব্রিক সলিংয়ের নিচ থেকে সরে খাদের দিকে চলে যাচ্ছে, তাতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আগে ব্রিজটির ওপর দিয়ে ট্রাকসহ বড় যানবাহন চলাচল করলেও সংযোগ সড়কের বর্তমান বেহাল অবস্থার কারণে তা বন্ধ রয়েছে। অটোরিকশা ও সিএনজি চলাচল করলেও ইতিমধ্যে কয়েকটি ছোট যানবাহন দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে বলে জানান তারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বছর নির্মাণকাজ শেষ হলেও ঠিকাদার সংযোগ সড়কের মাটি রোলার দিয়ে যথাযথভাবে কমপ্যাকশন করেননি। ফলে বৃষ্টির পানিতে মাটি সরে গিয়ে সংযোগ সড়কের এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) চন্দনাইশ উপজেলা প্রকৌশলী সৈয়দ আসিফ মুহাম্মদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ব্রিজের ধসে পড়া অ্যাপ্রোচ সড়কের স্থান পরিদর্শন করা হয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে সেতুর সংযোগ সড়কের একটি অংশ কিছুটা ধসে পড়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত ধসে পড়া অংশ পুনরায় সংস্কার করার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।