তিতাস থেকে গ্রিডে ১৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হবে আজ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ থেকে আজ জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে ১৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। দুপুর ১২টায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সরবরাহ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল) আজ শনিবার একটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

চীনা কোম্পানি সিনোপেক কনট্র্যাক্টিং অ্যান্ড ড্রিলিং কোম্পানি লিমিটেড (সিসিডিসি) ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে তিতাস-২৮ কূপটি খনন শুরু করে। গত ১৫ ডিসেম্বর কূপটির খনন শুরু হয়। ভূপৃষ্ঠের তিন হাজার ৬০০ মিটার গভীরতায় তিতাস-২৮-এ গ্যাস পাওয়া গেছে।

প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী একেএম জসীম উদ্দিন গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, তিতাস-২৯ নম্বর কূপের কাজ এক মাসের মধ্যে শেষ হবে। এ ছাড়া তিতাস-৩১-এ দেশের প্রথম ডিপ ড্রিলিংয়ের কাজ করছে এই চীনা কোম্পানিটি। ডিপ ড্রিলিংয়ে তিতাসের তিন হাজার ৭০০ থেকে ৫ হাজার ৪০০ মিটার গভীরতার মধ্যে চারটি সম্ভাবনাময় গ্যাস স্তর চিহ্নিত করা হয়েছে। এ গভীরতায় এর আগে বাংলাদেশে কোনো দিন গ্যাসকূপ খনন হয়নি। এর বাইরে তিতাস-৩০ নম্বর এবং বাখরাবাদ-১১ নম্বর কূপ খনন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিজিএফসিএল সূত্র বলছে, তিতাস-২৯ ও ৩১-এর খনন শেষ করার পর তিতাস-৩০ এবং বাখরাবাদ-১১ খনন শুরু হবে। বর্তমানে তিতাসের মজুদ আনুমানিক দেড় ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তিতাস-৩১ একটি অনুসন্ধানমূলক কূপ হওয়ায় এর মাধ্যমে নতুন গ্যাসের মজুদ আবিষ্কারের সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রাথমিকভাবে কূপটির মাধ্যমে আরও প্রায় দুই টিসিএফ গ্যাসের মজুদ যুক্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ মজুদের পরিমাণ নিশ্চিত করতে কূপটির খনন শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন স্তরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। পরীক্ষার ফল পাওয়ার পরই নতুন মজুদের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তিতাস দেশের সবচেয়ে বড় গ্যাসক্ষেত্র। বিজিএফসিএল তিতাস ছাড়াও নরসিংদী ও বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্র পরিচালনা করে। প্রায় ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে গ্যাসকূপ খনন করা হচ্ছে। দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বিগত সরকারের সময়।