শয্যার তিন গুণ রোগী মেঝেতে চিকিৎসা

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও জনবল সংকটের মধ্যেই ধারণক্ষমতার প্রায় তিন গুণ রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। অতিরিক্ত রোগীর চাপে শয্যা সংকট দেখা দেওয়ায় অনেক রোগীকে হাসপাতালের মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। এর সঙ্গে প্রতিদিন বহির্বিভাগে গড়ে আরও প্রায় ৮০০ রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বোয়ালমারী উপজেলার পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকেও প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগী এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। বর্তমানে হাসপাতালটিতে ১৫৪ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২০ জন হাম এবং ৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত। ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে নির্ধারিত শয্যায় জায়গা না পেয়ে অনেক রোগীকে মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবলের সংকটের কারণে হাসপাতালটির স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ২১ জন চিকিৎসকের পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১২ জন। ৩৬ জন নার্সের মধ্যে রয়েছেন ২৮ জন। ১০টি কনসালটেন্ট পদের বিপরীতে খাতা-কলমে একজন থাকলেও তিনি বর্তমানে ঢাকায় কর্মরত রয়েছেন।

এ ছাড়া টেকনিশিয়ানের ছয়টি পদের মধ্যে চারটিই শূন্য। হাসপাতালটিতে আয়া রয়েছেন মাত্র একজন। এত বিপুলসংখ্যক রোগীর বিপরীতে সীমিতসংখ্যক পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও সহায়ককর্মী দিয়ে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা এবং অন্য আনুষঙ্গিক সেবা নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

চিকিৎসা নিতে আসা মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমাদের মতো দরিদ্র মানুষের প্রধান ভরসা সরকারি হাসপাতাল। কিন্তু রোগীর চাপ বাড়লেও সেই তুলনায় চিকিৎসক ও শয্যা বাড়েনি। হাসপাতালের সেবার পরিধি বাড়িয়ে পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স ও বেডের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।’

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জমিলা বেগম বলেন, ‘অতিরিক্ত রোগীর কারণে বেডে জায়গা পাইনি। তাই মেঝেতে থাকতে হচ্ছে। অসুস্থ শরীর নিয়ে এতে আরও কষ্ট হচ্ছে।’

বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজমুল হাসান বলেন, ‘হাসপাতালটি বর্তমানে ৫০ শয্যার হলেও এটিকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। স্বল্পসংখ্যক জনবল দিয়ে বিপুলসংখ্যক রোগীকে সেবা দেওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে যাচ্ছে। এরপরও পৌরসভার সহযোগিতায় স্থানীয় পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মাধ্যমে সেবা কার্যক্রম সার্বক্ষণিক চালু রাখার চেষ্টা করছি। জনগণের সহযোগিতা পেলে সেবা কার্যক্রম আরও সুন্দরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।’