ভিন্ন ধর্মের মানুষের সামনে ইসলামের সৌন্দর্য এবং মুসলিমদের জীবনযাপন তুলে ধরতে শ্রীলঙ্কার নেগোম্বোতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে স্থানীয় এক মসজিদ কর্র্তৃপক্ষ। ধর্ম নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা দূর করা এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানোই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এশিয়া নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নেগোম্বোর পেরিয়ামুল্লা এলাকায় সেন্টার ফর ইসলামিক স্টাডিজ ‘ওয়েলকাম টু আওয়ার মস্ক’ শীর্ষক এ উদ্যোগের আয়োজন করে।
এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধর্মের দর্শনার্থীদের মসজিদে স্বাগত জানানো হয়। তারা মসজিদের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন, মুসলমানদের নামাজের পদ্ধতি সম্পর্কে জানেন এবং ইসলামি বিশ্বাস ও সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্ন করার সুযোগ পান।
মসজিদের স্থাপনা ও বিভিন্ন অংশের ব্যবহার সম্পর্কে দর্শনার্থীদের ধারণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি সৃষ্টিকর্তা সম্পর্কে ধারণা এবং শ্রীলঙ্কায় মুসলমানদের ঐতিহাসিক উপস্থিতি ও অবদান নিয়েও আলোচনা করা হয়।
এই আয়োজনের অন্যতম গাইড আহমেদ আয়াশ বলেন, সহাবস্থান ও পারস্পরিক বোঝাপড়া গড়ে তুলতেই এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
দর্শনার্থীদের বিনামূল্যে সিংহলি ভাষায় অনূদিত কোরআনের কপি ও ইসলামবিষয়ক বিভিন্ন বই দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে শ্রীলঙ্কার সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভাষায় ইসলাম সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি হয়। অনুষ্ঠানে ঐতিহ্যবাহী মুসলিম খাবারের সঙ্গেও দর্শনার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া অনেকের জন্য এটি ছিল জীবনে প্রথম কোনো মসজিদে প্রবেশের অভিজ্ঞতা। অথচ তারা বছরের পর বছর মুসলমানদের পাশাপাশি বসবাস করে আসছেন।
সিংহলি বৌদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী কোকিলা সুমুদুমালি ফেসবুকে কর্মসূচিটির ঘোষণা দেখে এতে অংশ নেন। দীর্ঘদিন ধরে মসজিদের ভেতরে কী হয়, মুসলমানরা কীভাবে ইবাদত করেন এবং মসজিদে মুসলিম নারীদের অংশগ্রহণ পুরুষদের তুলনায় কেন ভিন্ন, তা নিয়ে তার কৌতূহল ছিল। মসজিদে গিয়ে তিনি সরাসরি নিজের প্রশ্ন ও সংশয়ের উত্তর পান।
আরেক বৌদ্ধ দর্শনার্থী কাপিলা ইন্দুরুওয়াগে বলেন, প্রায় ৬০ বছর ধরে মুসলমানদের কাছাকাছি বসবাস করলেও আগে কখনো মসজিদে প্রবেশের সুযোগ পাইনি। বিভিন্ন ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠীর মানুষের একে অন্যের কাছে গিয়ে জানার সুযোগ তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।