নবীজির ৫ উপদেশ

নবীজির জীবনযাত্রা ও বাণী উম্মতের জন্য অমূল্য সম্পদ। তার প্রতিটি উপদেশই মানুষের কল্যাণের জন্য। তার বাণীতে যেমন আল্লাহর প্রতি ভরসা ও নির্ভরশীল হওয়ার শিক্ষা আছে, তেমনি আছে দাম্পত্য জীবন ও পারিবারিক সম্পর্ককে সুন্দর করার দিকনির্দেশনা। আবার যেমন রয়েছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও ইবাদতে মনোনিবেশ করার শিক্ষা, তেমনি রয়েছে সংযমী ও সন্তুষ্ট থাকার পরামর্শ। এ বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণী উল্লেখ করা হলো।

আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা : একদিন রাসুল (সা.) আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-কে বলেছেন, ‘হে কিশোর, আমি তোমাকে কিছু কথা শেখাব। তুমি আল্লাহর নির্দেশ সংরক্ষণ করবে, তোমাকেও তিনি সংরক্ষণ করবেন। তুমি আল্লাহর নির্দেশনা পালন করবে, তুমি তাকে তোমার সামনে পাবে। কোনো কিছু চাইলে আল্লাহর কাছে চাও। কারও কাছে সাহায্য চাইতে হলে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাও। জেনে রাখো, পুরো জাতি তোমার উপকার করতে চাইলেও আল্লাহ যতটুকু তোমার জন্য লিখে রেখেছেন ততটুকুই হবে। তারা তোমার ক্ষতি করতে চাইলেও আল্লাহ যতটুকু তোমার জন্য লিখে রেখেছেন ততটুকু হবে। (কারণ তকদিরের) কলম তুলে নেওয়া হয়েছে এবং পৃষ্ঠাগুলো শুকিয়ে গেছে।’ (তিরমিজি)

ইবাদতে নিয়োজিত থাকা : রাসুল (সা.) তার উম্মতকে বেশি বেশি মহান আল্লাহর ইবাদত করতে বলেছেন। মহান আল্লাহ যে সাত ধরনের ব্যক্তিকে আরশের নিচে ছায়া দেবেন, যেদিন তার ছায়া ব্যতীত আর কোনো ছায়া থাকবে না, তাদের মধ্যে এক শ্রেণি হলেন, যারা বেশি বেশি মহান আল্লাহর ইবাদতে নিয়োজিত থাকেন।

সামর্থ্য থাকলে বিয়ে করা : রাসুল (সা.) বলেন, ‘হে যুবক সম্প্রদায়, তোমাদের কেউ সামর্থ্যবান হলে সে যেন বিয়ে করে। কেননা তা দৃষ্টি রক্ষা করে এবং লজ্জাস্থান রক্ষা করে। আর কেউ তা না পারলে সে যেন রোজা রাখে। কারণ তা তাকে নিয়ন্ত্রণ রাখবে।’ (সহিহ বুখারি)

পরিবারকে সময় দেওয়া : নবীজি (সা.) বলেছেন, তোমাদের পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাও। তাদের শিক্ষা দাও। আল্লাহর আদেশ-নিষেধ জানাও। আর নামাজের সময় যেন তোমাদের একজন আজান দেয়। অতঃপর তোমাদের কোনো প্রবীণ ব্যক্তি যেন তোমাদের ইমাম হন।’ (সহিহ বুখারি)

সংযমী ও সন্তুষ্ট থাকা : আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘হে আবু হুরাইরা, আল্লাহভীরু হও। অর্থাৎ সন্দেহযুক্ত বিষয় পরিহার করো, তুমি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে ইবাদতগুজার হিসেবে গণ্য হবে। আল্লাহ প্রদত্ত রিজিকে সন্তুষ্ট হও, সবচেয়ে ধনী হবে। তুমি নিজের জন্য ও পরিবারের জন্য যা পছন্দ করো তা অন্য মুসলিম ও মুমিনের জন্য পছন্দ করো। নিজের জন্য যা অপছন্দ করো তা অন্যের জন্য অপছন্দ করো। তাহলে তুমি পরিপূর্ণ মুমিন বলে গণ্য হবে। পড়শীর সঙ্গে সুন্দরভাবে থাকো, তুমি পরিপূর্ণ মুসলিম বলে গণ্য হবে। বেশি হাসা পরিহার করো। কারণ বেশি হাসা অন্তর মৃত হওয়ার মতো।’ (তিরমিজি)

লেখক : ইমাম, খতিব ও মাদ্রাসাশিক্ষক