মিতি!
কী, মা?
ছাদে উঠতে তোমার ভালো লাগে?
খু-উ-ব ভালো লাগে। তুমি সেটা জানো মা। তা ছাড়া আমাদের ছাদটা অনেক সুন্দর।
এই মিতি, পশ্চিমের আকাশটা দ্যাখো!
সত্যি তো, দারুণ লাগছে। মনে হচ্ছে আঁকা ছবি।
গাঢ় নীলের মধ্যে সোনালি আলোতে মেঘগুলো ঝলমল করছে।
হুম। মাঝে মাঝে গোধূলির আকাশ এমন সুন্দর হয়।
তুমি এসব খেয়াল করো?
কেন করব না মা? সুন্দর কিছু দেখার আনন্দই আলাদা।
ঠিক বলেছো। দ্যাখো, কী মিষ্টি বাতাস!
বাতাস কি দেখা যায় মা?
আরে, এটা তো কথার কথা।
বাতাসের কি স্বাদ আছে?
না, নেই।
তাহলে কেন বললে মিষ্টি বাতাস?
বেশি পাকামো করো না।
আচ্ছা, করব না। একটা প্রশ্ন করি?
করো।
আমরা বলি মেঘ ডাকে। মেঘের তো মুখ নেই। ডাকে কী করে?
ফের দুষ্টুমি! বিজ্ঞান বইয়ে পড়োনি?
পড়েছি।
তাহলে তুমিই বলো মেঘ কেন ডাকে?
মেঘ বজ্রপাতের সময় ডাকে।
বৈজ্ঞানিক কারণটা বলো।
মেঘে মেঘে সংঘর্ষের সময় বৈদ্যুতিক চার্জের আদান-প্রদান হয়। যা তীব্র আলোর ঝলকানি তৈরি করে। সেই আলোতে বাতাস অতিমাত্রায় উত্তপ্ত ও প্রসারিত হয়। বাতাসের এই হঠাৎ প্রসারণের সৃষ্টি হয় বিকট শব্দ। এটাই মেঘের ডাক বা গর্জন।
এবার বলো বজ্রপাতের সময় আগে আলোর ঝলকানি দেখি, পরে মেঘের গর্জন শুনি কেন?
কারণ আলোর গতি শব্দের গতির চেয়ে বেশি।
ঠিক বলেছো।
কিন্তু বিনা মেঘে বজ্রপাত কি হয়?
সাধারণত হয় না।
এই বাগধারাটা তাহলে কেন এলো?
বিনা কারণে হঠাৎ কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তখন বলা হয় এই প্রবাদ। অপ্রত্যাশিত বিপদ বোঝাতে ব্যবহার করা হয় এই বাগধারা। বুঝতে পেরেছো?
হ্যাঁ, পেরেছি।
খেয়াল করেছো চারদিক অন্ধকার হয়ে আসছে?
করেছি। মেঘে মেঘে অনেক বেলা পার হয়েছে। হি-হি-হি।
মেঘনাদবধ কাব্যের নাম শুনেছো?
শুনেছি। বাবার মুখে।
কে লিখেছেন?
মাইকেল মধুসূদন দত্ত। অমিত্রাক্ষর ছন্দে লেখা।
মেঘনাদ নামে একজন বিজ্ঞানী আছেন, জানো?
না। জানি না।
উনার পুরো নাম মেঘনাদ সাহা। স্বনামধন্য পদার্থবিজ্ঞানী। অথচ পড়েছেন কিন্তু গণিত নিয়ে।
বাহ্, বেশ মজার তো। পড়েছেন এক বিষয়ে, গবেষণা করেছেন অন্য বিষয়ে।
এ জন্য বলি অংকটা ভালো করে করো। যারা অংকে ভালো তাদের অনেক সুবিধা।
আচ্ছা, তাহলে তুমি একটা প্রশ্নের জবাব দাও।
প্রশ্নটা বলো।
মেঘ ভূপৃষ্ঠ থেকে কত উপরে থাকে?
অনেক উপরে থাকে।
নির্দিষ্ট করে বলো।
জানি না। তুমি বলো।
মেঘ কয়েকশ মিটার থেকে শুরু করে ১২ কিলোমিটার বা তারও বেশি উচ্চতায়
থাকতে পারে। মেঘ কত প্রকার জানো?
না। তুমি বলো আমি শুনছি।
উচ্চতা অনুসারে তিন প্রকার। নিচু মেঘ, ভূপৃষ্ঠ থেকে ২ হাজার মিটারের নিচে থাকে। মাধ্যম মেঘ থাকে ২ হাজার থেকে ৬ হাজার মিটারের মধ্যে। আর উঁচু মেঘ থাকে ৬ হাজার মিটারের ওপরে। আকার ও চেহারা অনুসারে মেঘ আবার চার প্রকার।
তাই নাকি! কী কী মনে আছে?
আছে। সাইরাস বা অলক মেঘ, স্ট্র্যাটাস বা স্তর মেঘ, কিউমুলাস বা স্তূপ মেঘ এবং নিম্বাস বা ঝঞ্ঝা মেঘ।
ঝড়-বৃৃষ্টির মেঘ কোনটি?
এক ধরনের মেঘ আছে। নাম কিউমুলোনিম্বাস। এই মেঘ হলো পাজি মেঘ। এরাই ঝড়ের মেঘ নামে পরিচিত। যত বজ্রপাত, ঝড়, শিলাবৃষ্টি ও ভারী বৃষ্টি এরাই ঘটায়।
মিতি তুমি এত কিছু জানলে কী করে?
বাবার কাছ থেকে। আমার আগ্রহ দেখে নেট থেকে মেঘ নিয়ে অনেকগুলো লেখা প্রিন্ট করে দিয়েছে বাবা।
বাহ্! তুমি তো দেখছি মেঘবিদ হয়ে গেছো।
হি-হি-হি। কী যে বলো না মা। মেঘের ওজন কত জানো?
না, জানি না।
পেঁজা তুলার মতো মেঘকে ডাকা হয় কিউমুলাস মেঘ হিসেবে। মাঝারি আকারের কিউমুলাস মেঘের ওজন ১ লাখ কেজি থেকে ১০০ কোটি কেজি পর্যন্ত হতে পারে।
বলো কী! মেঘের এত ওজন?
১ কিলোমিটার লম্বা ও প্রস্থের কিউমুলাস মেঘের ওজন হতে পারে ৫ লাখ কেজি পর্যন্ত। বিমানে ভ্রমণের সময় আমরা জানালা দিয়ে যে মেঘ দেখতে পাই সেটা হলো স্ট্র্যাটাস মেঘ। এই মেঘের ঘনত্ব তুলনামূলকভাবে কম। তারপরও আয়তন বেশি হওয়ার কারণে এই মেঘের ওজন ৫ লাখ থেকে ১০ লাখ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। সবচেয়ে হালকা হলো সাইরাস মেঘ। এদের ওজন ১০ হাজার কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে।
গড় গড় করে এত তথ্য বললে মাথায় কতটা থাকবে কে জানে।
আচ্ছা, তাহলে একটা কৌতুক শোনো। মাথা হালকা হবে।
মেঘ নিয়ে?
অবশ্যই।
বেশ, বলো।
সাদা মেঘ কালো মেঘকে বলল, এত রাগ করে আছো কেন? কালো মেঘ জবাবে বলল, যাতে মানুষ ভয় পায়। আর আমি তো সূর্য না যে হাসব।
ওহ্ ‘মেঘ দেখে কেউ করিসনে ভয়, আড়ালে তার সূর্য হাসে...।’
কাছাকাছি আরেকটা কৌতুক শুনবে?
তুমি কি না শুনিয়ে থামবে?
মা, এত কথা বলো না। শোনো...।
শুনছি তো। আমার দুকান খোলা।
সাদা মেঘ কালো মেঘকে ডেকে বলল, তোমার মুখ এত ভার কেন? কালো মেঘ বলল, আমার মন খারাপ। একটু পর কেঁদে হালকা হবো।
তার মানে বৃষ্টি হয়ে ঝরবে। বেশি বৃষ্টি হলে তো রাস্তায় পানি জমে যায়।
হুম, ঠিক বলেছো। একটা কুইজ ধরি?
ধরতে পারো। জবাব দিতে পারব কিনা জানি না।
আচ্ছা, চেষ্টা করো। দেখবে পানির মতো সহজ।
ঠিক আছে, আগে কুইজটা বলো।
কী ধুলে নোংরা হয়, না ধুলে পরিষ্কার থাকে?
উহুম...। পারলাম না।
পানি। ধোয়া হলে পানি নোংরা হয়। না হলে পরিষ্কার থাকে। তোমাকে বললাম না, পানির মতো সহজ। হি-হি-হি।
এবার বাসায় চলো। সন্ধ্যা হয়ে গেছে।
যাব। তার আগে আরেকটা কুইজের জবাব দাও।
অনেক হয়েছে মিতি। এবার বাসায় চলো।
মা আজকের মতো এটাই লাস্ট। বলো তো, মেঘ কাকে কোলে নেয়?
এটা আবার কেমন কুইজ?
কেন রবি ঠাকুর না লিখেছেন, মেঘের কোলে রোদ হেসেছে। তার মানে মেঘ রোদকে কোলে নেয়। আর রোদ হাসে। হি-হি-হি।
মারব এক থাপ্পড়। পাকামোর একটা সীমা থাকা দরকার।
চলো বাসায় যাই। হি-হি-হি।