রুশ নিষেধাজ্ঞা বিলে ট্রাম্পের স্বাক্ষর, উদ্বেগে ভারত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপের ক্ষমতা সংবলিত বিতর্কিত বিলে স্বাক্ষর করেছেন। এই নতুন আইনের ফলে ভারত ও চীনের মতো রাশিয়ার জ্বালানি তেল ও গ্যাসের শীর্ষ ক্রেতা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানোর একতরফা ক্ষমতা পেলেন ট্রাম্প। ফলে ওয়াশিংটনের অন্যতম বড় অংশীদার হওয়া সত্ত্বেও ভারত তীব্র উদ্বেগের মধ্যে পড়েছে। 

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, নতুন আইনটি রাশিয়ার ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কের পরিধি বাড়াবে এবং ইরানের ওপরও চলমান কিছু নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখবে। আইনটি ট্রাম্পের সইয়ের ৩০ দিনের মধ্যে কার্যকর হওয়ার কথা।

কী আছে নতুন আইনে?

আইনটি ট্রাম্পকে রাশিয়ার তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের শীর্ষ পাঁচ ক্রেতা দেশের পণ্যে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দিয়েছে।

তবে রাশিয়ার গ্যাস আমদানির ক্ষেত্রে কিছু ছাড়ের সুযোগ রাখা হয়েছে। কোনো দেশ যদি নির্ধারিত সময়ে রাশিয়ার মোট গ্যাস রপ্তানির ১৫ শতাংশের কম আমদানি করে এবং রাশিয়ার গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমাতে ‘উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ’ নেয়, তাহলে সেই দেশ গ্যাস-সংক্রান্ত শুল্ক থেকে ছাড় পেতে পারে।

আইনে রাশিয়ার সরকারি কর্মকর্তা, ব্যাংক এবং রাশিয়ার জ্বালানি পরিবহণে ব্যবহৃত তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ ট্যাংকারগুলোর বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞার বিধান রয়েছে।

নতুন আইনে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ট্রাম্পকে ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কোন দেশের ওপর শুল্ক আরোপ করা হবে, শুল্কের হার কত হবে এবং নির্দিষ্ট কোনো নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় দেওয়া হবে কি না—এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতে থাকবে।

এর পরবর্তী সময়ে আগের ১২ মাসে মোট পরিমাণের হিসাবে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাসের শীর্ষ পাঁচ ক্রেতা দেশের পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের বিধান কার্যকর হতে পারে।

ট্রাম্পের সইয়ের আগে বিলটি মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষে বড় ব্যবধানে পাস হয়। সিনেটে ৮৬-১১ ভোটে এবং প্রতিনিধি পরিষদে ২৬২-১৫৯ ভোটে বিলটি অনুমোদিত হয়।

আইনটির নামকরণ করা হয়েছে প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামে। তিনি ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও বন্ধু হিসেবে পরিচিত ছিলেন। গত জুলাইয়ে ইউক্রেন সফর শেষে দেশে ফেরার পর তিনি আকস্মিকভাবে মারা যান।

নতুন আইনের মূল উদ্দেশ্য হলো রাশিয়ার জ্বালানি খাত ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসা থেকে আয় কমিয়ে দেশটির ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানো। এর মাধ্যমে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ পরিচালনার জন্য রাশিয়া যে অর্থনৈতিক সম্পদ ব্যবহার করছে, তা সীমিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

আইনটির খসড়া তৈরির সঙ্গে সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথালও যুক্ত ছিলেন। রাশিয়ার সরকারি কর্মকর্তা, ব্যাংক, প্রতিরক্ষা খাতের সহযোগী এবং জ্বালানি পরিবহণের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকেও নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার সুযোগ রাখা হয়েছে।