লাশ দাফনেও চাঁদাবাজির অভিযোগ ড. হাফিজের

এ সরকারের সময়ে লাশ দাফনেও চাঁদাবাজি শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী ও তুরস্কের তোকাত গাজী উসমান পাশা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী অধ্যাপক ড. হাফিজুর রহমান।

তিনি বলেন, গাজীপুরে কল-কারখানা থেকে শুরু করে সর্বত্র চাঁদাবাজি চলছে। টেম্পুস্ট্যান্ড, ফুটপাত শেষ করে এখন লাশ দাফন করলেও চাঁদা নিচ্ছে। গাজীপুরের মানুষ এ থেকে মুক্তি চায়, পরিবর্তন চায়। 

তিনি শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাসে অনুষ্ঠিত প্রথম পথসভায় এসব কথা বলেন। 

পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক জামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন  জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা।

সরকারের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি বলেছিল কৃষক কার্ড দেবে, ফ্যামেলি কার্ড দেবে। কিন্তু নির্বাচিত হয়ে এখন লোডশেডিং কার্ড ধরিয়ে দিয়েছে। তাই গাজীপুরের মানুষ বলে, খাম্বা আছে, বিদ্যুৎ নাই।

শ্রমিকদের দুঃখ-দুর্দশা তুলে ধরে ড. হাফিজ আরও বলেন, আমার শ্রমিক ভাই-বোনেরা সারাদিন কল-কারখানায় কাজ করে। সন্ধ্যায় ঘরে ফিরে দেখে গ্যাসের চুলা জ্বলে না। রাতে বিদ্যুৎ থাকে না। এই সরকার মানুষের সমস্যা সমাধানে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।

হাফিজুর রহমান বলেন, গাজীপুরের মানুষ চাঁদাবাজি থেকে মুক্তি চায়। আমরা মানুষের সেই প্রত্যাশা পূরণ করব, ইনশাআল্লাহ। 

এর আগে সকাল ৭টার দিকে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে লংমার্চ শুরু হয়। সেখানে উদ্বোধনী সভা শেষ ভোগড়া বাইপাসের পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। লংমার্চের বহর রংপুরের উদ্দেশে এগিয়ে যায়। টাঙ্গাইলের নগর জালফৈ পথসভা শেষে এখন সিরাজগঞ্জের পথে রয়েছে লং মার্চের গাড়ী বহর। সিরাজগঞ্জ চৌরাস্তা, বগুড়ার চারমাথা ও গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভা হওয়ার কথা রয়েছে। রাতে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী জনসভা হওয়ার কথা।

১১ দলীয় ঐক্যের আট দফা দাবির মধ্যে রয়েছে গণভোটের গণরায় ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, বিদ্যুৎ-গ্যাস-জ্বালানি ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ।