শাহজালাল (রহ.) মাজারে ৩৪ দিনে মিলল ৮৮ লাখ ৯২ হাজার টাকা

সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকা চতুর্থ বারের মতো প্রকাশ্যে গণনা করা হয়েছে। তৃতীয় দফায় গণনার ৩৪ দিন পর শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে টাকা গণনা শুরু হয়। গণনা শেষে সন্ধ্যায় সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, এবার দানবাক্সগুলোতে মোট ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা পাওয়া গেছে। এছাড়া মিলেছে স্বর্ণালংকার, বিদেশি মুদ্রা ও বিভিন্ন ধরনের চিরকুট।

জানা যায়, সকালে জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদীসহ সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে মাজারের ৩টি বড় ডেগ ও ৫টি দানবাক্সের তালা খুলে টাকাগুলো বস্তায় ভর্তি করা হয়। এরপর মাজার প্রাঙ্গণে টাকা গণনা শুরু হয়।

স্বেচ্ছাসেবীদের সহায়তায় মেশিন দিয়ে টাকা গণনা করা হয়। সন্ধ্যায় গণনা শেষে টাকা ও প্রাপ্ত অন্য মালপত্রের হিসাব তুলে ধরেন সিসিক প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি জানান, মোট নগদ টাকা পাওয়া গেছে ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা। স্বর্ণ পাওয়া গেছে ১ ভরি ৯ আনা ২ রতি। পাশপাশি মিলেছে ১৫ দেশের বৈদেশিক মুদ্রা। যার মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্যের ৫ পাউন্ড, ভারতের ৩ হাজার ৯৯৪ রুপি, থাইল্যান্ডের ৫ বাত, সৌদি আরবের ৯৯ রিয়াল ২৫ পয়সা, মালয়েশিয়ার ২৯ রিঙ্গিত, যুক্তরাষ্ট্রের ৮ ডলার ২ সেন্ট, ওমানের ৯০৩ বায়সা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৫৭ দিরহাম, ইরাকের ১ দিনার, কাতারের ২১ রিয়াল ৫০ পয়সা, ইউরোপের ৩০ ইউরো ১০ সেন্ট, বাহরাইনের ২৫ পয়সা, পাপুয়া নিউ গিনির ৫০ কিনা, চীনের ১৫ ইউয়ান ও ইন্দোনেশিয়ার ৫ হাজার রুপিয়া।

এর আগে তিন দফায় মাজারের দানবাক্স খুলে অর্থ গণনা করা হয়। গত ২২ জুন প্রথম দফায় দানবাক্স থেকে নগদ ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা, স্বর্ণালংকার ও বিদেশি মুদ্রা পাওয়া যায়। পরে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে আরও ৫ লাখ টাকা যুক্ত করা হলে মোট অর্থ দাঁড়ায় ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। এর ১৮ দিন পর ১১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় দানবাক্স খুলে পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের মুদ্রা ও স্বর্ণ-রূপাও পাওয়া যায়।

তৃতীয় দফায় ১৫ আগস্ট দানবাক্সে পাওয়া যায় ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা। শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে প্রাপ্ত টাকার আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে গত জুন মাসে উদ্যোগ নেয় জেলা প্রশাসন। তখনকার জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের নির্দেশে গত ১৮ জুন মাজারের ডেগগুলো সিলগালা করা হয় এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে দানবাক্স বসানো হয়। এরপর গত ৩ মাসে মাজারে প্রাপ্ত মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ২৯ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪০ টাকা।

সিসিক প্রশাসক জানান, প্রাপ্ত অর্থ মাজার তহবিল নামে খোলা ব্যাংক হিসাবে জমা করা হয়েছে। মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে গঠিত কমিটির তত্ত্বাবধানে এই কার্যক্রম চলছে।