ট্রিপল সেঞ্চুরির পুরস্কার পেলেন হৃদয়

দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ইতিহাস গড়া ইনিংস খেলার পুরস্কার পেলেন তাওহীদ হৃদয়। বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে পচেফস্ট্রুমে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে অপরাজিত ৩৫০ রান করায় আবার টেস্ট দলে সুযোগ পেয়েছেন এই মিডল অর্ডার ব্যাটার। আগামী ৯ অক্টোবর সংযুক্ত আরব আমিরাতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের জন্য ঘোষিত ১৫ সদস্যের বাংলাদেশ দলে হৃদয়ের সঙ্গে উইকেটরক্ষক-ব্যাটার জাকের আলীও ডাক পেয়েছেন। তবে জায়গা হয়নি অমিত হাসানের। বিশ্রামে থাকবেন তাসকিন আহমেদ। সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়া সফরের দ্বিতীয় টেস্টের দল থেকে আফগানিস্তান ম্যাচের স্কোয়াডে পরিবর্তন মূলত এই দুটিই।

তাসকিনকে বিশ্রাম দেওয়ার সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে সামনে থাকা গুরুত্বপূর্ণ টেস্টগুলোকে মাথায় রেখে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচগুলোয় তাকে সতেজ অবস্থায় পাওয়াই নির্বাচকদের মূল লক্ষ্য। এই ডানহাতি পেসারকে বিশ্রাম দেওয়ার ব্যাখ্যায় প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার বলেন, ‘আমরা যেহেতু বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচগুলোকে প্রাধান্য দিচ্ছি, তাই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্টে তাকে পুরোপুরি পেতে চাই। সে কারণেই আফগানিস্তানের বিপক্ষে এই টেস্টে তাকে রাখা হয়নি। সম্ভবত ওয়ানডে সিরিজ খেলবেন।’

গত জুনে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হয় হৃদয়ের। অভিষেক ম্যাচে দুই ইনিংস মিলিয়ে মাত্র ১২ রান করেন তিনি। এরপর অস্ট্রেলিয়া সফরের টেস্ট দলে জায়গা হারান। তবে জাতীয় দলের বাইরে থাকার সময়টা কাজে লাগিয়ে নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করেছেন ২৫ বছর বয়সী এ ব্যাটার। চলতি মাসের শুরুতে প্রোটিয়া ‘এ’ দলের বিপক্ষে ইতিহাস গড়েন তিনি। পচেফস্ট্রুমে ২৭টি চার ও ১০টি ছক্কার সাহায্যে অপরাজিত ৩৫০ রান করেন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটিই বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস। দেশের বাইরে বাংলাদেশের প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরিও এটি। এই ইনিংসের পরই আবার টেস্ট দলে জায়গা করে নিলেন হৃদয়। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও তার রেকর্ড বেশ সমৃদ্ধ। ১৮ ম্যাচে ৫৬.০৬ গড়ে রান করেছেন তিনি। সেঞ্চুরি চারটি। এর মধ্যে রয়েছে একটি ট্রিপল সেঞ্চুরি, একটি ডাবল সেঞ্চুরি ও দেড়শ ছাড়ানো আরেকটি ইনিংস।

হৃদয়ের সঙ্গে দলে ফিরেছেন জাকেরও। ছয়টি টেস্ট খেলা এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার সর্বশেষ টেস্ট খেলেছেন গত বছরের জুনে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। এরপর লিটন দাসের চোটের শঙ্কায় অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রথম টেস্টের দলে জায়গা পান তিনি। পরের ম্যাচে আবার বাদ পড়েন। তাকে আবার দলে নেওয়ার ব্যাখ্যায় হাবিবুল বলেন, ‘আমাদের মনে হয়েছে, সে আবার তার সেই ফর্ম ফিরে পেয়েছে। সে কারণেই দ্বিতীয় উইকেটরক্ষকের বিকল্প হিসেবে এবার আমরা তাকেই বেছে নিয়েছি।’ জাকের ফেরায় অমিত কেন বাদ পড়েছেন, সেটাও পরিষ্কার করেন প্রধান নির্বাচক, ‘অমিত মাত্র শুরু করেছে। ভবিষ্যতে তার অবশ্যই সুযোগ আসবে। কিন্তু সামনে যে গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট ম্যাচগুলো রয়েছে, সেখানে আমরা এমন খেলোয়াড়দের নিয়ে এগোতে চাই, যারা আগে খেলেছেন এবং পারফর্ম করেছেন।’

আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে নাহিদ রানাকে রাখেননি নির্বাচকরা। টেস্টের আগে চোট থেকে সেরে উঠবেন না এই ডানহাতি পেসার। সামনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট থাকায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তাকে পরবর্তী ম্যাচগুলোর জন্য প্রস্তুত করার চিন্তা হাবিবুলের, ‘আমরা টেস্ট ক্রিকেটকে প্রাধান্য দিচ্ছি। আমাদের সামনে আফগানিস্তানের টেস্টসহ আরও চারটি টেস্ট ম্যাচ রয়েছে। এর সঙ্গে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজও আছে। এই ম্যাচগুলো আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই নাহিদ রানাকে আমরা সর্বোচ্চ সুযোগ দিতে চাই, যাতে তিনি সবগুলো ম্যাচ খেলতে পারেন।’

এদিকে এশিয়ান গেমসের কারণে টেস্ট দলের ছয়জন ক্রিকেটার পরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যোগ দেবেন। তাদের অনুপস্থিতিতে প্রস্তুতি চালিয়ে নিতে নাঈম হাসান, মুশফিক হাসান ও ইকবাল হোসেন ইমনকে অতিরিক্ত খেলোয়াড় হিসেবে দলের সঙ্গে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি। তারা মূল ম্যাচ না খেললেও দুই দিনের একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে অংশ নেবেন।