তিন মাসেও মাহির মৃত্যু রহস্যের জট খোলেনি

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে সাহরাইল উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মারিয়া মাহির মৃত্যুর প্রায় তিন মাস পেরিয়ে গেলেও রহস্যের জট খোলেনি। পরিবার বলছে, তাকে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ আত্মহত্যা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার নয়জনের মধ্যে আটজন ইতিমধ্যে জামিনে মুক্ত হয়েছেন।

গত ১৫ জুন স্কুল থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় ১৪ বছর বয়সী মারিয়া। ছয় দিন পর ২১ জুন উপজেলার চন্দননগর এলাকার একটি কবরস্থানসংলগ্ন ঝোপে গাছের ডালে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের নিচের অংশ বিচ্ছিন্ন থাকায় শুরু থেকেই হত্যার অভিযোগ ওঠে। পরদিন মারিয়ার মা কামরুন্নাহার ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে সিংগাইর থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সিংগাইর থানার ওসি মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে আত্মহত্যার কথা বলা হয়েছে। তবে বিষয়টি পুলিশ পর্যালোচনা করছে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সুরতহাল প্রতিবেদনেও দৃশ্যমান আঘাত বা হত্যার স্পষ্ট আলামতের উল্লেখ নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্য, কয়েক দিন মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় থাকায় বৃষ্টির কারণে শরীরের নিচের অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। তবে পরিবারের দাবি, মরদেহের এ অবস্থা হত্যার আলামত।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পিবিআইয়ের এক কর্মকর্তা জানান, আশপাশের ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনায় মারিয়াকে ঘটনাস্থলের দিকে একাই যেতে দেখা গেছে। সেখানে অন্য কারও যাওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

জানা গেছে, মারিয়ার নিখোঁজ হওয়ার আগে ১০ জুন বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে তাকে ও দশম শ্রেণির ছাত্র আলিফকে ‘ঘনিষ্ঠ অবস্থায়’ দেখার অভিযোগ ওঠে। পরে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দুজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয় এবং দুজনকেই টিসি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এরপরই স্কুল থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় মারিয়া।

মারিয়ার বাবা মিজানুর রহমান দেওয়ান বলেন, পুলিশ বলেছে ডাক্তারি রিপোর্ট অনুযায়ী আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। আমি তা বিশ্বাস করি না। তিনি দাবি করেন, মারিয়া নিখোঁজের পর কয়েকজন তাদের পরিবারের কাছে টাকা দাবি করেছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের ঘটনা প্রকাশ না করার জন্য মারিয়া প্রধান শিক্ষকের কাছে অনুরোধ করেছিল।

সিংগাইর প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় একটি দালাল চক্রের প্ররোচনায় নিরপরাধ ব্যক্তিদের মামলায় জড়ানো হয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে মারিয়ার মৃত্যু হত্যা নাকি আত্মহত্যা এ প্রশ্নের উত্তর এখন নির্ভর করছে ময়নাতদন্ত, সুরতহাল, ফরেনসিক আলামত, সিসিটিভি ও মোবাইল ফোনের তথ্যসহ অন্যান্য প্রমাণের সমন্বিত বিশ্লেষণের ওপর। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রমাণভিত্তিক তদন্তের মাধ্যমেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ সম্ভব।