ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়ে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও ষড়যন্ত্রের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে।

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল ৫০০ পৃষ্ঠার এই পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন আপিল করবে বলে জানা গেছে।  

এর আগে গত ৫ জুলাই বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন— বিচারপতি মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারপতি নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মামলার একমাত্র আসামি ইনুর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন মোট ৮টি অভিযোগ এনেছিল। এর মধ্যে ৩টি অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। 

৩ নম্বর অভিযোগে সাক্ষী রাইসুল হকসহ ভুক্তভোগীদের রাজনৈতিক নিপীড়ন, নির্যাতন ও আহত করার দায়ে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

৬ নম্বর অভিযোগে অপরাধের ষড়যন্ত্র, প্ররোচনা ও দুষ্কর্মে সংযোগের দায়ে তাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১ লাখ টাকার অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

৭ নম্বর অভিযোগে অপরাধের ষড়যন্ত্রের দায়ে ইনুকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১ লাখ টাকার অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর অপরাধের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় ১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নম্বর অভিযোগ থেকে আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

রায়ে আদালত বলেছে, ‘আসামির ওপর আরোপিত সব সাজা যুগপৎ চলতে থাকবে।’ অর্থাৎ, সব মিলিয়ে ইনুকে ১০ বছর জেল খাটতে হবে। তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন অনুযায়ী এই রায়ের বিরুদ্ধে এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ পাবেন জাসদ সভাপতি।

প্রসিকিউশনের তদন্ত দল ইনুর বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ তদন্ত শুরু করে প্রতিবেদন দাখিল করে ১১ সেপ্টেম্বর। এরপর ২৫ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। শুনানি নিয়ে গত বছরের ২ নভেম্বর অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল।