বাজবল সংস্কৃতি বদলে ইংল্যান্ডকে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে দেখতে চান ফ্লেমিং

ব্রেন্ডন ম্যাককালামের বহুল আলোচিত 'বাজবল' অধ্যায়ের ইতি ঘটিয়ে ইংলিশ টেস্ট দলের প্রধান কোচ এখন তারই পুরনো বন্ধু ও জাতীয় দলের সাবকে সতীর্থ স্টিফেন ফ্লেমিং। দায়িত্ব নেওয়ার পরই ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের সংস্কৃতি ও পরিচয় সম্পূর্ণ বদলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন এই কিউই কোচ। একই সঙ্গে টেস্টের বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে দলকে এক নম্বরে ফিরিয়ে আনার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য সামনে রেখে মাঠে নেমেছেন তিনি।

গতকাল শনিবার ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচের আগে এমিরেটস ওল্ড ট্রাফোর্ডে আয়োজিত প্রথম সংবাদ সম্মেলনে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানান ফ্লেমিং। ইংল্যান্ডের কোচ হওয়ার পর এটি ছিল তার প্রথম অফিশিয়াল সংবাদ সম্মেলন। কাউন্টি দলগুলোর সঙ্গে চার ম্যাচ ঘুরে দেখার মধ্য দিয়ে নিজের এই নতুন যাত্রাকে তিনি অভিহিত করেছেন 'ভালোবাসার সফর' হিসেবে। 

দীর্ঘ মেয়াদে ২০৩০ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইংল্যান্ডের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়া ফ্লেমিং এই দায়িত্বকে ক্রিকেটের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ কাজ বলে উল্লেখ করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে টেস্ট দলের নতুন লক্ষ্য ও দলের খোলস পাল্টানোর পরিকল্পনা নিয়ে ফ্লেমিং বলেন, ‘আমি বিশ্বের এক নম্বর টেস্ট দলের দায়িত্বে থাকতে চাই। এটিই আমার আকাঙ্ক্ষা।’  

ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কাকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করার পর টি-টোয়েন্টি র‌্যাঙ্কিংয়ে ভারতে সরিয়ে শীর্ষে উঠে এসেছে ইংল্যান্ড। তবে সবচেয়ে বেশি ১১০০ টেস্ট খেলা দলটি এই মুহূর্তে আইসিসির টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ে আছে পাঁচে। মূলত এখানেই পরিবর্তনটা আনতে চান ইংলিশদের এই কোচ। 

দলের বর্তমান পারফরম্যান্স এবং বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ নিয়ে দলের উদাসীন মনোভাব নিয়েও কড়া সমালোচনা করেছেন নতুন কোচ। বিশেষ করে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপকে গুরুত্ব না দেওয়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘এটি উচ্চ পর্যায়ের, এটি আকাঙ্ক্ষামূলক। ইংল্যান্ড এর চেয়ে অনেক ভালো করতে পারে। এবং অতিরিক্ত ওভারের হার নিয়েও মনোভাব, আমার মনে হয় পরিচয়ের সঙ্গে এবং খেলার শৈলীর সঙ্গেই জড়িত।’ 

এদিকে ইংলিশ ক্রিকেট মহলে গুঞ্জন ছিল বেন স্টোকসের আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর ভেঙে ফেরার বিষয়টি নিয়ে ফ্লেমিং কোনো আলোচনা করবেন কি না। তবে এই বিষয়ে বেশ স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন তিনি। চেস্টার-লে-স্রেটে সাবেক টেস্ট অধিনায়ক বেন স্টোকসের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈঠকের পর ফ্লেমিং সরাসরি জানিয়ে দিলেন, ‘আমি তার সিদ্ধান্তকে অনেক শ্রদ্ধা করি। সেটাকে উল্টানোর চেষ্টা করা এবং প্রশ্ন করা ভুল হবে।’ 

অন্যদিকে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ফ্র্যাঞ্চাইজি কোচিংয়ের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকলেও লাল বলের ক্রিকেটের প্রতি নিজের আজন্ম অনুরাগের কথা অকপটে স্বীকার করেছেন ফ্লেমিং। টেস্ট ক্রিকেটের মূল কাঠামোর সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা জানিয়ে ইংলিশদের কোচ বলেন, ‘আমি স্বভাবগতভাবেই লাল বলের ক্রিকেটপ্রেমী এবং সেখানেই আমি কৌশল, নেতৃত্ব এবং খেলার নান্দনিকতা শিখেছি।’

দলের সাম্প্রতিক মাঠের বাইরের কিছু বিতর্ক এবং খেলোয়াড়দের শৃঙ্খলা প্রসঙ্গেও কথা বলেছেন নতুন কোচ। জো রুটকে আদর্শ হিসেবে তুলে ধরে দলের সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। ‘আপনি স্বীকার করুন যে এটি হতাশাজনক... এখানে কাজ করার আছে। এটি সেই পরিচিতির বিষয়ের কাছে ফিরে আসে এবং নিশ্চিত করে যে আমরা নিজের চেয়ে বড় কিছুর সঙ্গে যুক্ত আছি, যা সৌভাগ্যবশত এই ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে। আপনি যদি একটি উদাহরণ চান, একজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে কীভাবে আচরণ করতে হয় তার একটি দুর্দান্ত উদাহরণ হলেন জো রুট।’ 

কাউন্টি ক্রিকেটের সঙ্গে সুসম্পর্ক পুনর্স্থাপন এবং নতুন প্রতিভাদের ঝালাই করে নেওয়ার কাজও এরই মধ্যে শুরু করে দিয়েছেন ফ্লেমিং।