‘নিয়মিত দৌঁড়ানো জীবনের লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করে’

ঘড়ির কাটায় তখন ভোর ৫.১০ মিনিট। কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে। আধো আলো, আধো অন্ধকারের মধ্যে দূর থেকে ভেসে আসছে আমাদের জাতীয় সংগীত। ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি।’

আমরা দাঁড়িয়ে আছি এম্ফিথিয়েটার পয়েন্ট বরাবর স্টার্টলাইনে। আয়োজকদের একজন কাউন্টডাউন শুরু করলেন- পাঁচ, চার, তিন, দুই, এক, গো... যার যার লক্ষ্যে পৌঁছাতে দৌড় শুরু করলেন রানাররা। গত ১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার তার্কিশ এয়ারলাইনসের সৌজন্যে রাজধানীর হাতিরঝিলে হাফ ম্যারাথনের আয়োজন করে অ্যাকটিভ পালস বাংলাদেশ। চারটি ক্যাটাগরিতে যথাক্রমে ১.৫ কি.মি, ৭.৩২১ কি.মি, ১৪.৬৪ কি.মি এবং ২১.০৯৫ কিলোমিটারের দৌড়ে অংশগ্রহণ করেছেন প্রায় ৫ হাজার রানার। ভোরের হিমশীতল আবহাওয়ায় নগরীর শিশু, কিশোর, নারী-পুরুষ, যুবক ও বয়স্ক মানুষদের সাথে দৌঁড়ানো আমার জন্য ছিল ভিন্ন এক অনুভূতির।

২০২৪ সাল থেকে আমি ম্যারাথনে দৌঁড়ানো শুরু করি। প্রতিবার রান শেষ করে নতুন লক্ষ্য ঠিক করতাম। যার ফলে ৪টি ম্যারথনে অংশগ্রহণ করে আমি পর্যায়কক্রমে ৭.৫ কিলোমিটার, ৫ কিলোমিটার, ১০ কিলোমিটার এবং সর্বশেষ ১৫ কিলোমিটার দৌঁড় সফলভাবে শেষ করি। এবারের ম্যারাথনে ১৫ কিলোমিটারের দৌঁড় শেষ করেই আরেকটি নতুন লক্ষ্য ঠিক করেছি। আগামী অক্টোবর মাসেই কোনো একটি আয়োজনে হাফ ম্যারাথনে (২১ কিলোমিটার) অংশগ্রহণ করবো।

দৌঁড় অত্যন্ত কঠিন এবং শরীর থেকে অনবরত ঘাম ঝরানোর কাজ। লক্ষ্য মাথায় রেখে ধৈর্যের সাথে দৌঁড়াতে হয়। মন এবং শরীরের সঠিক এলাইনমেন্টই একজন রানারকে ঠিকঠাকভাবে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে পারে। শুধু মনের কথা শুনে পায়ে অতিরিক্ত প্রেশার দিলে কিংবা মন যখন একটু ধীরে দৌঁড়াতে বা থামতে বলবে তা গুরুত্বের সাথে না মানলে যেকোনো সময় দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। দৌঁড়ানোর সময় হাইড্রেশন পয়েন্টগুলোতে থামা এবং শরীরের জন্য ফুয়েল সরবরাহ করাও খুব জরুরি।

সর্বশেষ শত ব্যথা যন্ত্রণা সহ্য করেও যখন ফিনিশ লাইন ছোঁয়া যায়, শত মানুষের হাততালির অভিবাদন আর একটি লাল ফিতাসহ মেডেল গলায় পরিয়ে দেওয়া হয় তখন সব কষ্টই মুহূর্তে ম্লান হয়ে যায়। নিয়মিত দৌঁড়ে শারীরিক সক্ষমতা এবং নিজের সীমা সম্পর্কে জানা যায়। মানসিক শক্তি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লক্ষ্য নির্ধারণ এবং নতুন নতুন অর্জনের অভ্যাস তৈরি হয়। দীর্ঘ দৌঁড়ে একটা সময় শরীর ক্লান্ত হয়ে যায়। তখন নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করে এগিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা জীবনের অন্য ক্ষেত্রেও কাজে লাগতে পারে।