বৃক্ষের আত্মরক্ষা কৌশল

বন্যপ্রাণীরা যখন ‘একাশিয়া’ গাছের পাতা খেতে শুরু করে, তখন গাছটি বাতাসে ‘ইথিলিন’ গ্যাস নির্গত করে। সেই গ্যাস বাতাসে ভেসে আশপাশের অন্য একাশিয়া গাছের কাছে রাসায়নিক বার্তা পৌঁছায়। বার্তা পাওয়া মাত্র, পাশের গাছগুলো সতর্ক হয়ে যায় এবং দ্রুত তাদের গাছের পাতায় ‘ট্যানিন’ নামের বিষাক্ত ও তিক্ত রাসায়নিকের পরিমাণ বাড়ায়। ফলে পাতাগুলো এতটাই তিতা হয় যে, জিরাফ বা হরিণের মতো তৃণভোজী প্রাণী আর সেই পাতা খেতে পারে না। এরপর বাধ্য হয়ে তারা ভিন্ন এলাকায় চলে যায়। এটি উদ্ভিদ জগতে জাদুকরী আত্মরক্ষা কৌশল। গাছের পাতাগুলো দেখতে কিছুটা বর্শাকৃতির বা কাস্তের মতো বাঁকা। শাল বা সেগুনের মতো ঐতিহ্যবাহী গাছ পরিপক্ব হতে যেখানে ৩০-৪০ বছর লাগে, সেখানে বিস্ময়কর একাশিয়া মাত্র ১০ থেকে ১৫ বছরে কাটার উপযোগী হয়। যে কারণে বনায়ন ও কাঠের চাহিদা মেটাতে গাছটি বাংলাদেশে  ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে। বিশ্বজুড়ে এর এক হাজারেরও বেশি প্রজাতি রয়েছে। যার সিংহভাগের আদি নিবাস আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়।  এই গাছ মাটি থেকে প্রচুর পরিমাণে পানি শুষে নেয়। ফলে আশপাশের মাটির আর্দ্রতা  হ্রাস পায় এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যেতে পারে। এর পাতা যেহেতু সহজে পচে না এবং পাতা থেকে নিঃসৃত টক্সিন মাটির উর্বরতা কমিয়ে সংলগ্ন দেশীয় উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি করে। যে কারণে অনেকে বলেন গাছটি জীববৈচিত্র্যে ভারসাম্য নষ্ট করছে।