সকালের যেসব কাজে জীবন হয় বরকতময়

প্রতিটি নতুন দিন মানুষের জন্য নিয়ে আসে নতুন সম্ভাবনা ও দায়িত্ব। দিনের শুরুটা সুন্দর হলে কাজেও আসে মনোযোগ, মনে জাগে প্রশান্তি। একজন মুমিনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো, মহান আল্লাহর ইবাদত ও স্মরণের মাধ্যমে দিন শুরু করা। ফজরের নামাজ, সকালবেলার দোয়া ও জিকির মানুষের অন্তরে আল্লাহর প্রতি ভরসা জাগায়। একই সঙ্গে তা তাকে সৎকাজে উদ্বুদ্ধ করে এবং জীবনের নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মানসিক শক্তি জোগায়। তাই দিনের শুরুতে ফজরের নামাজের পর যেসব কাজ তথা আমল ও দোয়া মুমিনের জীবনে বরকত বয়ে আনে, সেগুলো সম্পর্কে জানা এবং আমল করার চেষ্টা করা জরুরি।

আয়াতুল কুরসি : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, তার জান্নাতে প্রবেশের পথে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো অন্তরায় থাকবে না।’ (শুআবুল ইমান)

আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের দোয়া : ‘রাজিতু বিল্লাহি রব্বাও, ওয়াবিল ইসলামি দ্বীনাও, ওয়াবি মুহাম্মাদিন নাবিয়্যা।’ অর্থাৎ আমি আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মাদ (সা.)-কে নবী হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট। যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যা তিনবার নিম্নের দোয়া পাঠ করবে, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে সন্তুষ্ট করবেন। (তিরমিজি ৩৩৮৯)

জাহান্নাম থেকে মুক্তির দোয়া : ‘আল্লাহুম্মা আজিরনি মিনান নার।’ অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করুন। যে ব্যক্তি ফজর ও মাগরিবের পর সাতবার দোয়াটি পাঠ করে এবং ওই দিনে বা রাতে তার মৃত্যু হয়, তাহলে সে জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভ করবে। (আবু দাউদ ৫০৭৯) 

মসিবত থেকে হেফাজতের দোয়া : ‘বিসমিল্লাহিল্লাজি লা ইয়াদুররু মাআসমিহি শাইয়ুং ফিল আরদি ওয়া লা ফিস সামায়ি ওয়া হুওয়াস সামিউল আলিম।’ অর্থাৎ আল্লাহর নামে শুরু করছি, যার নামে শুরু করলে আসমান-জমিনের কোনো বস্তু ক্ষতিসাধন করতে পারে না। আর তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। নবীজি (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি দিন ও রাতের শুরুতে তিনবার দোয়াটি পড়বে, ওই দিন ও রাতে কোনো অনিষ্ট তাকে স্পর্শ করবে না। (মুসনাদে আহমাদ ৪৭৪)

কষ্টদায়ক প্রাণী থেকে হেফাজতের দোয়া : ‘আউজু বিকালিমা তিল্লাহিত তাম্মাতি মিন শাররি মা খালাক।’ অর্থাৎ আমি আল্লাহর পূর্ণাঙ্গ কালিমাগুলোর দ্বারা সব সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যা দোয়াটি তিনবার পাঠ করবে, সেসব কষ্টদায়ক প্রাণী থেকে হেফাজতে থাকবে। (সহিহ মুসলিম ২৭০৯)

এ ছাড়া অনিষ্ট থেকে বাঁচতে সকাল-সন্ধ্যা সুরা ইখলাস তিনবার, সুরা ফালাক তিনবার এবং সুরা নাস তিনবার পাঠ করা সুন্নত।

সুরা ইয়াসিন পড়া : হাদিসে সুরা ইয়াসিন পড়ার অনেক ফজিলত বর্ণিত আছে। প্রতিদিন সকালে আমরা সুরা ইয়াসিন পড়তে পারি।

লেখক : ধর্মীয় নিবন্ধকার