গেমস মানেই যেন অঘটন

আন্তর্জাতিক গেমসে পদকের ধারাবাহিকতা নেই। কোনো কোনো গেমসে তো পদকই জেতে না বাংলাদেশ। তারপরও গেমসে গিয়ে নানা অপকীর্তি গড়তে জুড়ি নেই লাল সবুজের ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তাদের। যার সর্বশেষ সংযোজন জাপানের আইচি-নাগোয়াতে এশিয়ান গেমসেও। শাটলারদের গেমস ড্রেসকোড না থাকা এবং গেমস ব্লেজার থাকলেও সাইক্লিস্ট ও কর্তাদের সাদামাটা টি-শার্টে জাপানে গমন।

প্রায় ফি বছর কোনো না কোনো গেমসে অংশ নিয়ে থাকে বাংলাদেশ। অলিম্পিক, এশিয়ান, কমনওয়েলথ, বিচ, ইসলামিক সলিডারিটি, এশিয়ান ইয়ুথ, এশিয়ান ইনডোর অ্যান্ড মার্শাল আর্ট প্রায় সব গেমসেই অংশ নিয়ে থাকেন লাল-সবুজের ক্রীড়াবিদরা। কিন্তু অঘটনও যেন ধারাবাহিক হয়ে উঠেছে তাদের কাছে। সবশেষ কয়েকটি গেমস পর্যালোচনা করলেই তা স্পষ্ট।

২০২৩ চীনের হাংজুতে অনুষ্ঠিত হয় এশিয়ান গেমস। ওই আসরে কারাতে দলের খেলা থাকা সত্ত্বেও সময়মতো ভেন্যুতে উপস্থিত হতে পারেননি কারাতেকারা। যার ফলে ওই ইভেন্টে খেলাই হয়নি কারাতেকা হাসান খান সানের। সূত্র জানিয়েছিল, কোচ মোয়াজ্জেম হোসেন সেন্টু ও দলনেতা ইকবাল হোসেন ঘুম থেকে দেরি করে ওঠায় ভেন্যু বাস মিস করেন। আর তাতেই সানের খেলা হয়নি। গত বছর সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত হয় ইসলামিক সলিডারিটি গেমস। ওই আসরে অঘটন ঘটায় কুস্তি। ব্রোঞ্জপদকের খেলার আগেই ভেন্যু থেকে বেরিয়ে যান বাংলাদেশের কুস্তিগির হালিমা খাতুন। এটা যে পদকের খেলা ছিল, সেটাও নাকি জানতেন না দলনেতা ও কুস্তি ফেডারেশনের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মেসবাহ উদ্দিন আজাদ। ফলে একটি স্বপ্নের অপমৃত্যু ঘটে। পরে অবশ্য জানা গিয়েছিল, হালিমা কারও একজনের সঙ্গে শপিং করতে চলে গিয়েছিলেন।

এ বছরের এপ্রিলে চীনের সানিয়াতে অনুষ্ঠিত হয় এশিয়ান বিচ গেমস। ওই আসরে অ্যাথলেট দলের সঙ্গে ম্যানেজার হিসেবে গিয়েছিলেন অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের তৎকালীন সদস্য নজির মল্লিক। নারী লিয়ার্জো অফিসারের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন তিনি। যা নিয়ে চীনের অলিম্পিক কমিটি সতর্কবার্তা দিয়ে একটি চিঠি পাঠায় বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) কাছে। পরে তদন্তে বিষয়টির সত্যতা পাওয়া যায়। যার ফলে এক বছর আন্তর্জাতিক গেমস থেকে নিষিদ্ধ করা হয় নজির মল্লিককে।

গেমসে অঘটনের অভিশাপ যেন কাটছেই না বাংলাদেশের। জাপানের আইচি-নাগোয়াতে চলছে এশিয়ান গেমস। মহাদেশের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরে বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদদের লক্ষ্য যেখানে নিজেদের সেরাটা দেওয়া, সেখানে ড্রেস কোড ঘিরে তৈরি হয়েছে কিছুটা বিব্রতকর পরিস্থিতি। ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়দের পোশাক নিয়ে দেখা দিয়েছে অসন্তোষ ও অস্বস্তি। নামের বানান ও মাপে ভুলের কারণে খেলায় অংশগ্রহণই অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে শাটলারদের। বাধ্য হয়ে জাপানের নাগোয়ায় নতুন জার্সি তৈরিতে ব্যস্ত বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টনের কর্মকর্তারা।

এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ কন্টিনজেন্টের শেফ দ্য মিশন মেজর ইমরোজ আহমেদ (অব.) বলেন, ‘গেমসে অংশগ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের কাছে জার্সি অনুমোদন নিতে হয়। ক্রিকেট, ফুটবল, কাবাডিসহ অনেক ফেডারেশনই আমাদের কাছে  জার্সি পাঠিয়েছিল। আমরা সেটা অনুমোদন করেছি। ব্যাডমিন্টন ফেডারেশন শুধু ডিজাইন দিয়েছিল, সেটা আমরা অনুমোদন করিয়েছি। কিন্তু জার্সিতে নামের বানান, দেশ ও খেলোয়াড়ের নামের অবস্থান, নামের পরিমাপে ভুল থাকায় সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের মহাসচিব বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছেন।’

অন্যদিকে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) দেওয়া পোশাক না পরে সাধারণ পোশাকে বিমানবন্দর হয়ে নাগোয়াতে গেছে বাংলাদেশের সাইক্লিং দল। দুটি ঘটনাই দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক কোনো ক্রীড়া আসরে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দলের উপস্থাপনাও গুরুত্বপূর্ণ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা, বিমানবন্দর, ভেন্যু কিংবা গেমস ভিলেজ, সব জায়গাতেই একটি দেশের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেন ক্রীড়াবিদরা। ফলে দলীয় পোশাক শুধু পোশাকের বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে দেশের পরিচয় ও প্রতিনিধিত্বের বিষয়টিও।