ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার হরষপুর ইউনিয়নের বাগদিয়া এলাকায় একটি খালের ওপর থাকা সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে। ঝুঁকিপূর্ণ এই সেতু দিয়েই প্রতিদিন হাজারো মানুষ ও ছোট-বড় যানবাহন চলাচল করছে।
স্থানীয়রা জানান, কয়েক বছর আগে সেতুটির মাঝের অংশে গর্তের সৃষ্টি হয়। পরে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে টিনের পাটাতন দিয়ে সাময়িকভাবে মেরামত করা হয়। সেই ব্যবস্থা দিয়েই দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে ব্যস্ততম এই সড়কে ছোট-বড় যানবাহনের চাপ থাকায় টিনের পাটাতন সরে গেছে। ফলে সেতুর ভাঙা অংশের আকার দিন দিন বড় হচ্ছে।
ভাঙা সেতুর কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষক ও রোগীরা। সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর মধ্যে হরষপুর-মির্জাপুর সড়ক অন্যতম। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত ছোট-বড় যানবাহন চলাচল করে।
বর্তমানে সেতুর মাঝের অংশে বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় উপজেলার পূর্বাঞ্চলের হাট-বাজারের পণ্যবাহী ট্রাকগুলো প্রায়ই সেখানে আটকে পড়ছে। এতে সড়কের দুই পাশে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারীরা।
হরষপুর-মির্জাপুর সড়কটি পাশের মাধবপুর উপজেলার সঙ্গে বিকল্প সংযোগ সড়ক হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। ফলে সেতুটির এই দুরবস্থার কারণে স্থানীয়দের পাশাপাশি এই সড়ক ব্যবহারকারী অন্যদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
রত্না নামে এক গর্ভবতী মা বলেন, বাচ্চাদের সঙ্গে তাঁদেরও সেতুটি পার হতে সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। সেতু ভাঙা থাকায় যাত্রীদের নামিয়ে গাড়ি এপাশ থেকে ওপাশে পার করা হয়। যাত্রীদের পায়ে হেঁটে সেতু পার হতে হয়, যা খুবই কষ্টদায়ক।
কলেজ শিক্ষার্থী আশরাফুল বলেন, অনেকদিন ধরেই সেতুটি ভাঙা। আগে ভাঙা অংশ কম ছিল। এখন সেটি আরও বড় হওয়ায় ঝুঁকিও বেড়েছে।
বিজয়নগর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মোহাম্মদ আশিকুর রহমান ভূঞা বলেন, ভাঙা সেতুটি নতুন করে নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে নতুন করে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।