চবির আলাওল হলের নতুন প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আমান উল্লাহ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আলাওল হলের নতুন প্রভোস্ট হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দপ্তরের প্রশাসক ও গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আমান উল্লাহ।
 
​সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় তথ্যটি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. হাছান মিয়া।
 
জানতে চাইলে ​তিনি বলেন, 'আলাওল হলে নতুন করে প্রভোস্ট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর আগে যিনি প্রভোস্ট ছিলেন তিনি পদত্যাগ করেছেন এবং আমরা তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছি। নতুন প্রভোস্ট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তবে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।'
 
​নবনিযুক্ত প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আমান উল্লাহ কুমিল্লার বরুরা উপজেলার বরুরা হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। পরে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের ১৯৯২-৯৩ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হন। তিনি ১৯৯৫ সালে গণিতে বি এস সি অনার্স এবং ১৯৯৬ সালে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। মাস্টার্সে থিসিসের সফলতায় তিনি ১৯৯৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গোল্ড মেডেল সম্মাননা অর্জন করেন।
 
​পরবর্তীতে ২০০২ সালে তিনি নিজ বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন এবং ২০১১ সালে চীনের সাংহাই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। ২০১৬ সালে তিনি নিজ বিভাগে অধ্যাপক পদে উন্নীত হন এবং ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে তিনি নিরাপত্তা দপ্তরের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পান।
 
​জানতে চাইলে নতুন প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আমান উল্লাহ বলেন, 'দায়িত্ব নেয়ার পর, আমি হলের শিক্ষার্থী, হল সংসদ এবং সংশ্লিষ্ট সবার সাথে সমন্বয় করে কাজ করে যাওয়ার চেষ্টা করব। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে যে ধরণের উন্নয়নমূলক কাজ করা প্রয়োজন, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে আমি আমার দায়িত্ব পালন করব।'
 
​তিনি আরও বলেন, 'আমি আশা করি সকলের সহযোগিতা এবং আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই হলের কার্যক্রমকে আরও বেশি গতিশীল করতে পারব। শিক্ষার্থীদের মতামতকে প্রাধান্য দেই আমি সবসময় কাজ করবো।'
 
আলাওল হলের সদ্যবিদায়ী প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. জামালুল আকবর চৌধুরীর বিরুদ্ধে হলে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, আসন বণ্টনে অস্বচ্ছতাসহ নানা অভিযোগ তুলে পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছিলেন হলটির শিক্ষার্থীরা। এছাড়া তার বিরুদ্ধে সাংবাদিক পরিচয়ে কল দিয়ে শিক্ষার্থীদের হয়রানি, হলের উন্নয়ন কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত ঠিকাদার থেকে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি, ফলের আবাসিক শিক্ষার্থী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে অসদাচরণ, হল সংসদের কাজে বাধা প্রদান করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
 
​হলের দায়িত্ব পালনে স্বেচ্ছাচারিতা, হলের সিসিটিভি ক্যামেরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বন্ধ করে রাখাসহ একাধিক অভিযোগ উঠে। এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে চবি উপাচার্যকে একাধিকবার স্মারকলিপি দিয়েছে হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও ছাত্র সংসদের নেতৃবৃন্দ। গত ১৫ আগস্ট প্রভোস্টকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে রুমে আটকে তালা দেয় সাধারণ শিক্ষার্থী ও হল সংসদের নেতৃবৃন্দ। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ২০ সেপ্টেম্বর ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন।