সন্তানরা মা-বাবার হৃদয়ের স্পন্দন। সন্তানকে ঘিরে মা-বাবার জীবনে থাকে হাজারো স্বপ্ন, পরিকল্পনা, আনন্দ ও ত্যাগের অধ্যায়। একটি কোমল মুখ, নিষ্পাপ হাসি, এক জোড়া কচি হাতের স্পর্শ পৃথিবীর সমস্ত দুঃখ-যন্ত্রণাকে ভুলিয়ে দিতে পারে। সেই আদরের সন্তান যদি আকস্মিক দুর্ঘটনায় পৃথিবী ছেড়ে চলে যায়, তবে তাতে একটি পরিবার শোকাগ্রস্ত হয়ে সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়ে, মা-বাবার বুকফাটা কান্নায় ভারী হয় আকাশ-বাতাস, ক্ষতবিক্ষত হয় স্বজনদের হৃদয়।
হাদিসে এসেছে, হজরত আবু মুসা আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যখন কারও সন্তান মারা যায়, তখন আল্লাহতায়ালা ফেরেশতাদের ডেকে বলেন, তোমরা আমার বান্দার সন্তানের জান কবজ করে ফেলেছ? তারা বলেন, হ্যাঁ। আল্লাহতায়ালা বলেন, তোমরা তার কলিজার টুকরার জান কবজ করে ফেলেছ? তারা বলেন, হ্যাঁ। আল্লাহতায়ালা বলেন, আমার বান্দা কি বলেছে? তারা বলেন, আপনার বান্দা এই বিপদেও ধৈর্যধারণ করে আপনার প্রশংসা করেছে এবং ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন পড়েছে। তখন আল্লাহতায়ালা বলেন, তোমরা আমার এই বান্দার জন্য জান্নাতে একটি প্রাসাদ নির্মাণ করো এবং তার নামকরণ করো বাইতুল হামদ অর্থাৎ প্রশংসার ঘর।’ (তিরমিজি)
সন্তান মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অমূল্য নেয়ামত। কখনো কখনো তিনি এ নেয়ামত ছিনিয়ে নেন। এটা তার পক্ষ থেকে বান্দার জন্য পরীক্ষাস্বরূপ। এমন শোকের সময় আমাদের করণীয় হলো হলো ধৈর্যধারণ করা এবং আল্লাহর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকা।
অপর হাদিসে এসেছে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন এক ব্যক্তি তাকে বলল, আমার একটি পুত্রসন্তান মারা গেছে, যার জন্য আমি শোকাহত। আপনি কি আপনার বন্ধু (মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এমন কোনো কথা শুনেছেন, যা আমাদের হৃদয়কে খুশি করতে পারে? আবু হুরায়রা (রা.) বললেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, মুসলিমদের শিশুরা জান্নাতে সাগরের মাছের মতো সাঁতার কাটতে থাকবে। যখন তারা তাদের পিতাকে পাবে তখন পিতার কাপড়ের কোনা টেনে ধরবে। পিতাকে জান্নাতে না পৌঁছানো পর্যন্ত ছাড়বে না। (সহিহ মুসলিম) মহান আল্লাহ সন্তানহারা সব মা-বাবাকে ধৈর্যধারণের তওফিক দান করুন। আমিন।
লেখক : ইসলামি গবেষক